ইউটিউবার বল্টু | Youtuber Boltu

ইউটিউবার বল্টু

কাওরাকান্দি গ্রামের একপাশে বল্টদের টিনের ঘর। গ্রামের সবাই বল্টকে মোটেও সয্য করতে পারে না। ইউটিউবার বল্টু | Youtuber Boltu! কারন সে খুবই অলস। তাকে যদি কেউ বলতো আমাকে এক গ্রাস পানি খাওয়া বল্টর পানি আনতে আনতেই দিন পার হয়ে যেত। বল্টর একটাই কাজ সারাদিন বিছানায় শুয়ে থাকা। আর মোবাইলে টিকটক দেখা। তো এর মাঝেই বল্টর মা ঝাড়ু নিয়ে আসে আর বল্ট কোন কাজ-বাজ না করায় বল্টকে বিভিন্ন কথা শুনাতে থাকে। এটা বল্টর কাছে নতুন কিছু না। কারন তাকে এই কথা প্রায় প্রতিদিনই শুনতে হয়।

ইউটিউবার বল্টু | Youtuber Boltu

বল্ট কি করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারে না। এর মাঝেই বল্ট একদিন টিকটকে দেখতে পায় পাশের গ্রামের এক ছেলে ইউটিউব থেকে ভিডিও করে মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করছে। এটা দেখতেই বল্টর চোখ কপালে উঠে যায়। আর আমনি বল্ট বিছানা থেকে লাভ দিয়ে উঠে চিৎকার করে বলে উঠে .. মা আমি ইউটিউবার হবো!’

মা তো ইউটিউব কি কিছুই বুঝে না। গ্রামের মূখ্য সুখ্য মানুষ। মা তেড়ে আসে আর ঝাটা হাতে বলে তুই আগে কোন কাজ কর। তারপর ইউটিউব করিস। কিন্ত বল্ট মাকে কোন ভাবে কিছু বাঝাতে পারে না। কিন্ত সে তার কথা ওটল থাকে। সেদিন রাতেই বল্ট একটা ইউটিউব চ্যানেল খুলে নেয়। চ্যানেলের নাম রাখে -বল্ট ভাই কা ধামাকা’ তারপর সে নিজে নিজেই একটা লোগে বানিয়ে নেয়। তার সাদা মাটা লোগো টা মেটোও সুন্দর ছিল না। 

পরদিনই বল্ট পরিকল্পনা করতে থাকে কি ভিডিও বানাবে। প্রথমে চিন্তা করে রান্নার ভিডিও বানাবে। কিন্ত রান্না ঘরে ঢুকতেই বল্টর মা ঝাটা হাতে তেড়ে আসে। বল্টর প্রথম আইডিয়া ফেল করে। তারপরেই বল্ট চিন্ত করে তাহলে ভ্রমন ভিডিও বানাবে। কিন্ত তখনেই তার মনে পরে পকেটে তো এক টাকাও নেই। এরপর বল্ট পরে যায় মহা চিন্তা কি ভিডিও বানানো যায়। তখনই তার চোখে পরে সামনের পুকুরটা। পুকুরটা ছিল একটা ভুতুরে পুকুর। পুরো নিরিবিলি জায়গা। তখনই বল্ট সিদ্ধান্ত নেয় সে ভুতের রহস্য উদঘাটনের ভিডিও করবে।

বল্ট এবার উত্তেজিত হয়ে যায়। আর পাশের বাড়ির বল্টর সাথে ভাল সম্পর্কে সাদিয়া ভাবির সাথে বল্টু কথা বলে। বল্টু সাদিয়া ভাবিকে বলে ভাবি আপনী আমার ক্যামেরা ম্যান। প্রথমে সাদিয়া ভাবি রাজি না হলেও পরে বল্ট যখন বলে টাকা পেলে আপনাকে পার্সেন্টিজ দিবো তখন ভাবি রাজি হয়ে যায়।

এর পর সেদিন যখন সন্ধা নেমে আসে। পুকুর পারে বল্ট তার ভিডিও প্রথম সুটিং শুরু করে। সাদিয়া ভাবি ফোন ধরে ছিল। আর তখন বল্ট তার সহস্যময় স্বরে বলতে শুর ‍করে। 

-দর্শক ভাই ও বোনেরা .. এই সেই পুকুর যেখানে রাতে নাকি ভুতে আলো জ্বালায়। আবার অনেকেই বলে এটা  পেটিনির কাজ। 

কিন্ত ঠিক তখনই পেছন থেকৈ কালু চাচা চিৎকার করে বলে উঠে! বল্ট তোর মা তোকে ডাকে। ভাত ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। তুই এখানে কি করস। 

বলতে চমকে পুকুরের কিনারায় পা পিছলে পড়তে পড়তে সামলে নেয়।  এই দিকে সাদিয়া ভাবি ওটাই ভিডিও করতে থাকে।

বল্ট রেগে গিয়ে বলে চাচা এটা শুটিং চলছে। তখনই কালু চাচা হাসতে হাসতে বলে শুটিং ? তুই তো  অভিনয় করস না, পাগলামি করস।

ভিডিওতে বল্টর চমকে যাওয়া আর কালু কাকার চিৎকার আর বলতেকে শুটিং পারস না বলা সবই রয়ে যায়।

বল্ট মন খারাপ করে বাড়ি চলে যায়। আর বলে বাল কোন কিছু করেই শান্তি নাই। রাতে বল্ট ওই ভিডিওটাই ইডিট করতে বসে। এডিট করার সময় বলটু পরে যাওয়া চাচার চিৎকার এই গুলো ডিলিট করে না। তারপর ওটাই আপলোড করে দেয়। প্রথম দিন ভিউ মাএ তিন টা। তাও বল্ট নিজেই তার ভিডিও তিনবার দেখেছে। 

কিন্ত পরদিন বল্টুর সাথে মিরাকেল ঘটে যায়। ভিডিও টা গ্রামের একটা ছেলে তাদের হোয়াটআপ গ্রুপে শেয়ার করে। আর ক্যাপশন লিখে দেয় দেখ বল্টু পুকুর পারে  পরে যাচ্ছিল। আর বল্টুর চাচা বল্টুকে কিভাবে আপমান করছে। 

এরপর আর থামায় কে? ভিউ বাড়তে থাকে প্রথমে ১০০..৪০…৫হাজার… তারপর ৫০ হাজার। আর কমেন্টের বন্য বয়ে যেতে থাকে।

অনেকেকেই কমেন্ট করে….

– “ভাই, পার্ট ২ চাই! কালু চাচাকে নিয়ে!”

– “রহিমা বুবুর ক্যামেরা ওয়ার্ক অসাধারণ 😂”

– “এটা হরর নাকি কমেডি? আমি তো হাসতে হাসতে শেষ”

বল্ট আবাক হয়ে যায়। কারন তার ভিডিও টা ভাইরাল হয়েছে। কিন্ত সবাই বলছে এটা নাকি কমেডি ভিডিও। 

বল্ট এবার বুঝে যায়। তাকে কমেডি ভিডিও বানাতে হবে। এবারে সে ভিডিও বানানোর সময় কালু চাচাকেও সাথে রাখে। আর তারপর থেকে বল্টর সব ভিডিও ভাইরাল হয়। বল্টর মা এখন আর ঝাটা হাতে আসে না। বল্টকে বকাবকিও করে না।  সাদিয়া ভাবিও এখন নিয়মিত বল্টকে সাহায্য করে। এখন গ্রামে সবাই বল্টর ভিডিও দেখে হাসে। বল্টর পাগলামি সবাই পছন্দ করে। বল্ট এখন আর আলস নেই। সে এখন গ্রামের নাম করা প্রথম ইউটিউবার।  তাই সবাই তাকে এখন ইউটিউবার বল্ট বলেই ডাকে।

সমাপ্ত…..

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *