Home / ভালবাসা / প্রথম দেখা হাসিতে প্রেমে পরে হাবুডুবু খেয়েছি
Nice Girl, Sweet Girl

প্রথম দেখা হাসিতে প্রেমে পরে হাবুডুবু খেয়েছি

– ধুর ছাই!
.
– কি হলো?
.
– দাগ কেটেছে
.
– কপালে?
.
– উঁহু, ভালোবাসায়
.
– কেন কেন?
.
– ভালোবাসা বলতে কিচ্ছু নেই। সব তোমার মন ভুলানো কথা।
.
– হলপ কেটে বলছি ম্যাডাম, এই জীবনে তুমিই প্রথম তুমিই শেষ।
.
– তাহলে দীপা কে?
.
– কোথা থেকে পেলে একে?
.
– পুরনো আলমারি ঘাটছিলাম। উপর থেকে টুপ করে পরলো ডায়েরিটি । প্রত্যেক পাতায় দীপাকে নিয়ে মহাকাব্য।
.
– অন্যের ডায়েরি ঘাটা ঘোর অন্যায়। সংবিধান বর্হিভূত।
.
– সংবিধান বলতে কিছু নেই। সব ক্ষমতার সৃষ্টি।
.
– ধরা যখন পরেই গেলাম। ট্রাইবুনাল বানাও। বিচারক বসাও। শাস্তি পেতে আমি প্রস্তুত।
.
– ট্রাইবুনাল আমি , বিচারক ও আমি। শাস্তি তোমাকে পেতেই হবে।
.
– আমি হাঁটু গেড়ে মাথা পেতে দিলাম। ন্যায় বিচার চাইছি।
.
– বিচার হবে । আস্থা রাখুন। আগে বলুন কে এই দীপা?
.
– কলেজ ক্যান্টিনে দেখা । লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট যাকে বলে।
.
– প্রেমের মামলা আগেই বুঝেছি। দেখতে কেমন মেয়েটি?
.
– কেশবতী চুল, হরিণীর মত চোখ। গোলাপী ঠোঁট। প্রথম দেখা হাসিতে প্রেমে পরে হাবুডুবু খেয়েছি।
.
– স্ত্রীর সামনে পর নারীর প্রশংসা। পরকীয়ার মামলা হবে। শাস্তি পাবে, কঠিন শাস্তি।
.
– প্রেমে দোষ ভুল মানে না। মনের কথাই মুখে আসে।
.
– পরের গল্প বলো। হরিণীকে বলেছিলে?
.
– অনেক ধকল পেরিয়ে বলেছিলাম একদিন লুকিয়ে।
.
– উত্তরে কি ছিলো?
.
– কোমল হাতের স্পর্শ ডান গালে। আমি হরিণীর দিকে তাকাই নি। আশেপাশে তাকিয়ে দেখছিলাম । ভাগ্যিস কেউ দেখেনি।
.
– হিহিহিহি
.
– মাননীয় জজ সাহেবা আদলতে উচ্চ স্বরে হাসা নিষেধ।
.
– দুঃখিত দুঃখিত। আগে বাড়ুন।
.
– বহুদিন কেঁটে গেলে। লজ্জায় ক্লাস বন্ধ। এক সন্ধায় লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে আছি। হঠাত্‍ মেসের দরজায় ঠকঠক।
.
– তারপর?
.
– জ্বরে গা পুড়ছে । উঠার শক্তি নেই। অনেক সময় কেটে গেলে। ছেঁড়া লেপের ফুটো দিয়ে তাকালাম। আবছা আলোয় রমনীর চেহারা ভেসে আসছে।
.
– হুম ইন্টারেস্টিং ! আগে বলুন।
.
– লেপ তুলে হুড়মুড়িয়ে উঠলাম। সামনে হরিণী বসা। চোখে কাজল দিয়ে এসেছে।
.
– তারপর?
.
– কিছু বলার আগেই ধমক দিয়ে শোয়ালো। তখনো জ্বরে কাঁপছে শরীর। আমি ঝাপসা চোখে দেখছিলাম হরিণী তার কোমল হাতে জলপট্টি দিয়ে যাচ্ছে আমার কপালে। ধিরে ধিরে চোখ ঝাপসা হয়ে এলো আমার। গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম। সে কি মধুর স্বপ্ন!
.
– স্বপ্ন?
.
– হু, সমুদ্রের পারে একা বসে আছি। নীল শাড়িতে হরিণী চোখে কাজল দিয়ে এলো। যেন আকাশ থেকে ভেসে আসা কোন পরী। কাছে এসে আমার পাশে বসে দুজন সমুদ্রের বিশাল ঢেউয়ের মাঝে নিজেদের হারিয়ে যাওয়া দেখছি।
.
– বেশ রোমান্টিকও বটে।
.
– বলা যায়। কিছু দূর তাকাতেই হাওয়াই মিঠাই দেখে হরিণী বায়না ধরলো খাওয়ার।
.
– এনে দিয়েছিলে?
.
– হুম। কুটুস কুটুস করে হরিণী হাওয়াই মিঠাই খাচ্ছে। আর পরের জনম গুলোতে তাকে নিয়ে সমুদ্রপাড়ে হাওয়াই মিঠাই খাওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু
.
– কিন্তু কি?
.
– দেখার আগেই হরিণীর কোমল হাতের স্পর্শ কপালে পরতেই ঘুম ভাঙ্গলো।
.
– জ্বর নেমেছিলো?
.
– জ্বর নেমেছিলো ঠিকই কিন্তু ঘোর কাটেনি। হরিণীর দুচোখের দিকে তাকিয়ে হাঁ হয়ে ছিলাম আমি।
.
– কেন কেন?
.
– চোখের পানি আর কাজল লেপ্টে ছিলো তার। রুমাল দিয়ে মুছে ইতিহাস বানিয়ে লুকিয়ে রেখে দিয়েছি পকেটে। রুমালের সাথে কাজল লেপ্টে আছে এখনো। ছেলে মেয়েদের দেখাবো বলে।
.
– প্রেমের পর কি হলো?
.
– বড়ই জেদী মেয়ে বুঝলেন জজ সাহেবা। একদিন হুট করে বউ সেজে এসে হাজির। বিয়ে সে করেই ছাড়বে।
.
– শুধু কি তাঁর? আপনার ছিলো না?
.
– ছিলো বইকি! তাকে নিয়ে হাঁটা ধরলাম কাজী অফিসের দিকে।
.
– বেশ সুন্দর!
.
– এই ছিলো মহাকাব্যের পিছনের ইতিহাস। বলুন জজ সাহেবা আমার দোষটা কোথায়?
.
– বিরাট দোষ! গল্পের হরিণী কি এই মহাকাব্য লিখার ইতিহাস জানতো?
.
– ভুল হয়েছে আমার জজ সাহেবা। শাস্তির জন্য আমি প্রস্তুত।
.
– ভালোবাসতে হবে হরিণীকে। মহাকাব্যের মতোই। চলবে?
.
– দৌড়াবে সাহেবা। আর কিছু?
.
– এত উঁচু ডাইনিং টেবিলে বসে আর কতক্ষণ? কোমড় ব্যথা হয়ে যাচ্ছে আমার। এইবার নামাও।
.
– নামালাম।
.
– বেশ করেছ , আর শোনো ভালোবাসায় দাগ পরেনি একদমও। বরং বেড়েছে।
.
– আমার মহাকাব্য?
.
– চশমাওয়ালা ছেলেটির জন্য হরিণীর ছোটখাট একটি মহাকাব্য গেঁথে ছিলো মনে। দেখা যাক রংতুলির কালিতে তার কতটুকু আঁকা যায় !
.
– দীপা
.
– জ্বি জনাব
.
– ভালোবাসো?
.
– মোটেও না
.
– হাহাহা
.
.
লিখাঃ আশরাফ মামুন

Facebook Comments

About Priyo Golpo

Check Also

Jeff Bezos VS Poor Man Family Love

তাদের হয়ত আমাজনের মালিক জেফ বেজোসের মত অঢেল সম্পত্তি নেই কিন্তু তাদের সংসার ভালবাসার আলোয় আলোকিত।

খবরে পড়ছিলাম আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এর বিবাহ বিচ্ছেদের কথা। ডিভোর্স হওয়া স্ত্রীকে দিচ্ছেন প্রায় …

error: Content is protected !!