Home / জীবনের গল্প / মিনুর বুক অজানা কারনে কাপঁছে

মিনুর বুক অজানা কারনে কাপঁছে

এক.

‘এক কন্যা রাঁধে- বাড়ে
আরেক কন্যা খায়
আরেক কন্যা গাল ফুলিয়ে বাবার বাড়ি যায়’

জমির সাহেবের মাথার মধ্যে এখন শুধু এই লাইন ক’টা ঘুরছে। জমির সাহেব নিজের রুমের খাটে বসে আছেন। বসে বসে তজবি জপছেন। কিন্তু এক অদ্ভূত কারনে তার তজবি জপায় ভুল হচ্ছে। জমির সাহেবের মাথায় তিন কন্যার লাইন গুলো ঘুরছে।

জমির সাহেবের তিন কন্যা- রেনু, বিনু, মিনু। অদ্ভূত ব্যাপারটা হল তার তিন কন্যা আজ তার বাসায়। অন্য সময় হলে তার তিন কন্যাকে এক সাথে পাওয়া যেত না। রেনু আর বিনুর বিয়ে হয়ে গেছে। মিনু ঢাকায় পাবলিক ভার্সিটিতে পড়াশুনা করে।

ছুটি ছাড়া বাড়িতে তেমন আসা হয় না মিনুর। অন্যদিকে বিনুর বিয়ে হয়েছে এক বছরও হয় নি। নতুন বউয়ের মত বিনু শ্বশুড় শাশুড়ির মন যোগাতে ব্যস্ত। আর জমির সাহেবের বড় মেয়ের নাম রেনু। রেনু থাকে স্বামী সন্তান নিয়ে শহরে। অনেকদিক এদিকে আসা হয় নি রেনুর। অথচ আজ কিভাবে কিভাবে তার তিনকন্যারা জমির সাহেবের বাসায় হাজির। যদিও জমির সাহেবের বিশ্বাস এটা তার কন্যাদের মধ্যে আগে হতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনো পলিকল্পনার আংশ। দুঃখের ব্যাপার কারণটা জমির সাহেব অনেক মাথা খাটিয়েও ধরতে পারেননি!
কন্যাদের আগমন আর দশ বাড়িতে হলে আনন্দের রেশ ছড়িয়ে পড়ত। কিন্তু জমির সাহেবের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আলাদা। হুট করে তিন কন্যার আগমন জমির সাহেবকে একই সাথে চিন্তা আর অস্বস্তিতে ফেলেছে।

জমির সাহেবের আশা ছিল বংশের বাতি রক্ষার্থে এক পুত্রসন্তানের । অতি আকাংক্ষিত বস্তু জমির সাহেবের জীবনে চির অধরাই রয়ে গেল। পুত্র সন্তানের আশায় থাকা জমির সাহেব এর জীবন অপূর্ণ হল তিন কন্যার জন্মের মধ্য দিয়ে। জমির সাহেবের স্কুলের মতি হুজুর স্যার সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিল,
-হেড মাস্টার সাহেব, তিন কন্যা আপনার জন্য খোদার নিয়ামত।আল্লাহ তার পেয়ারা বান্দাকে কন্যা সন্তানের বাবা করেন।
মতি হুজুরের কথা শুনে জমির সাহেব সে দিন তার দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে ছিলেন। জমির সাহেব আল্লাহর পেয়ারা বান্দা হবার কোন সম্ভাবনা নেই। জীবনের অর্ধেক সময় তার কেটেছে নামাজ রোজার প্রতি উদাসিনতায়। সেই উদাসিনতা কেটে গেলেও জমির সাহেবের বিশ্বাস তার সারা জীবনের পূণ্য মতি হুজুরের এর সমান হবে না। মতি হুজুরের চার পুত্রের কথা মনে পড়ে জমির সাহেবের দীর্ঘশ্বাস সেদিন আরো গাঢ় হয়েছিল।

রান্না ঘর হতে টুং টাং আওয়াজ আসছে। জমির সাহেব ভাবছেন তার তিন কন্যারা এখন কি করছে। আজ চাঁদরাত। এই প্রথমবারের মত জমির সাহেব এই ঈদটা একলা কাটানোর কথা ছিল। জমির সাহেবের স্ত্রী রানু চলে যাওয়ার পর এই প্রথম ঈদ। রানুর কথা ভাবতে জমির সাহেবের মনটা খারাপ হয়ে গেল। মানুষটা এত তাড়াতাড়ি চলে গেল! অথচ এই ঘরময় রানুর ছোঁয়া লেগে আছে। জমির সাহেবের মনে হচ্ছে রান্না ঘরে যেন রানু টুং টাং শব্দ করছে। দুধ বেশি করে কড়া চা বানিয়ে এখনই আসবে তার জন্য।

রানু চা নিয়ে আর আসল না। জমির সাহেবের সামনে হাতে চা নিয়ে দাড়িয়ে আছে বিনু। বিনুর মাথাা লম্বা ঘোমটা দেওয়া। মুখটা দেখা যাচ্ছে না। মেয়ের এই লজ্জা পাওয়া স্বভাব জানেন বলেই জমির সাহেব বুঝলেন এটা বিনু। ছোট বেলা হতে বিনু লাজুক স্বভাবের। বিয়ের পর যেন বিনুর লজ্জা আরও এক প্রস্থ বেড়েছে। জমির সাহেব চা টা নিয়ে বিনুকে বলল,
-বসো।
বিনু ঘোমটা ঠিক করে পাশের চেয়ারে বসল
-তোমার শ্বশুড় শাশুড়ি কেমন আছেন?
– জ্বি ভাল। বিনুর ছোট উত্তর।
-তোমাকে এ বাড়িতে জামাই দিয়ে যায় নি কেন?
বিনু চুপ করে থাকল।
-তোমার সাথে তার কোন ঝগড়া হইছে?
বিনু কথা না বলে মাথা নাড়ায় । জমির সাহেব তীক্ষ্ন দৃষ্টিতে বিনুর দিকে তাকান।
– তুমি নতুন বউ। এটা তোমার বিয়ের পরের প্রথম ঈদ।তোমার শ্বশুড় বাড়ির লোকজন এখানে আসতে অনুমতি দিয়েছে?
বিনু মাথা নিচু করে থাকে। অন্যদিন হলে জমির সাহেব বিনুকে কড়া গলায় কিছু বলত নতুন বউ হয়ে এভাবে চলে আসার জন্য।কিন্তু আজ কেন জানি জমির সাহবের কোন শাসন করার ইচ্ছে করছে না। জমির সাহেব বিনুকে বললেন,
– তুমি এখন যাও।
বিনু ঘোমটা টা আরেকটু টেনে বেরিয়ে গেল রুম হতে। জমির সাহেব এর মনে পড়ল” আরেক কন্যা গাল ফুলিয়ে বাবার বাড়ি যায়”!
বাইরে আতশবাজির শব্দে পাড়াটা গমগমে। ছেলেমেয়েদের সেই আনন্দে শামিল হলো আরও কয়েকজন রসিক বুড়োবুড়ি। লাইট বন্ধ করা রুমে জমির সাহেব একলা বসে আছেন। তার প্রচন্ডভাবে রানুকে মনে পড়ছে। রানু ছিল দুধফর্সা , লাজুক স্বভাবের। আর কি আশ্চর্য রকমের নরম! জমির সাহেবের ঠিক বিপরীত। অথচ এই সংসারটা রানুর যায়গায় অন্য কেউ কোনদিন বেঁধে রাখতে পারত না। বারবার হতাশ হওয়া জমির সাহেবের তিন কন্যাকে সম্পূর্ন একলা মানুষ করেছে রানু। এরা জমির সাহেবের না, রানুর তিন কন্যা। এক অদ্ভূত অনাদারে রানুর কন্যারা বেড়ে উঠেছে এ সংসারে। যেখানে জমির সাহেব ছিলেন দৃশ্যমান হয়েও অদৃশ্য বাবার ভূমিকায়। আর তাই হয়তো তার তিন কন্যারা জমির সাহেবকে ভয় পায়। এ ভয় ঠিক বুঝে না উঠতে পারা চেনা মানুষের প্রতি অচেনা শঙ্কার!

জমির উদ্দিনের মনে পড়ল তার কন্যাদের এভাবে এক সাথে দেখেছেন খুব বেশি দিন হয় নি। বড়জোড় পাঁচ মাস। যে ভয়ংকর দিনে জমির সাহেব ঘুম ভেঙ্গে আবিষ্কার করেছিল ঘুমের মাঝে রানু মারা গেল!অনন্তকালের ঘুম! সেই দিন মেয়েগুলোর বাঁধভাঙ্গা কান্নায় জমির সাহেবের প্রশ্ন জেগেছিল, যে মানুষটা চলে যায় সে নাকি যাদেরকে ছেড়ে যায়- কে বেশি অসহায়?
খালি গলায় কারো গানের সুরে জমির সাহেব এর চিন্তা ভাঙ্গল। তিনি রুম হতে বেরিয়ে দেখলেন বারান্দায় মিনু আপন মনে গান গাইছে। সেই গান বিষাদের, বেদনার।

-বাবা! আপনি? মিনু গান থামিয়ে ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করে।
জমির সাহেব বুঝতে পারছেন না কি উত্তর দিবেন। মেয়েদের সাথে তার মাঝে বহুদিন ধরে গড়ে উঠা এই অদৃশ্য দেয়াল ডিঙ্গানো খুব সহজ নয়। তিনি আসলেই জানতেন না মিনুর গানের গলা এত সুন্দর। আচ্ছা রানু কি জানত?
-তোমার বোনরা কোথায়?
– রান্না ঘরে । মিনুর বুক অজানা কারনে কাপঁছে।
-বাবা কিছু লাগবে?
-না। রান্নাঘর হতে রেনু আর বিনুর গলা ভেসে আসছে। জমির সাহেবের ইচ্ছে করছে তাদের কথা শুনতে। কিন্তু তা সম্ভব না। তাকে দেখলেই তার মেয়েরা ভয়ে চুপ হয়ে যায়। মিনু স্থির হয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। জমির সাহেবের মনে হল মিনুকে বলা দরকার তার গালের গলা অসম্ভব রকমের সুন্দর! কিন্তু জমির সাহেব কিছু না বলে চলে যাচ্ছেন। তার মাথায় ঘুরছে” আরেক কন্যা খায় হবে না, হবে আরেক কন্যা গায়!”

এশার আজান অনেক আগে দিয়েছে। জমির উদ্দিনের মসজিদে যাওয়া উচিত।তার জানালা দিয়ে ঈদের চাঁদ দেখা যাচ্ছে। তিন কন্যাদের হাসির শব্দ ভেসে আসছে তার কানে। ছোটবেলায় প্রতি চাঁদরাতে এই হাসি ঠাট্টায় আরেকজন মানুষের গলাও শোনা যেত। বহুদিন পর এই ঈদটা জমির উদ্দিন তার তিন মেয়ের সাথে কাটতে যাচ্ছে। অথচ সেই মানুষটা নেই।সেই মানুষটার স্মৃতি আছে,অসংখ্য কথা আছে, মান অভিমানের গল্প আছে- কিন্তু মানুষটা নেই!!

দুই.
ঈদের গোসল করে রুমে এসে বিনুর বাবা দেখলেন নতুন পান্জাবি , পাজামা আর টুপি খাটের উপর সুন্দর করে রেখে দেওয়া। জমির সাহেব বুঝলেন এটা তার মেয়েদের কান্ড। রেনু যখন এসএসসির বৃত্তির টাকা দিয়ে জমির সাহেবকে সাদা রঙের পান্জাবি কিনে দিয়েছিল জমির সাহেব সেদিন রেনুকে বকেছিলেন এভাবে খরচ করার জন্য। এরপর হতে তার কন্যারা তার জন্য কিছু কিনতো না। কখনো কখনো রানুর জন্য এটা সেটা কিনে আনতো। জমির সাহেব বুঝেও না বুঝার ভান করতেন।
পান্জাবিটা পরে জমির সাহেব আয়নার দাড়িয়ে আছেন। তার ইচ্ছে করছে মেয়েদের জিজ্ঞেস করতে কেমন লাগছে! রানু থাকলে অবশ্য মুখ টিপে হেসে বলত, আপনাকে সবসময় সুন্দর লাগে!
-আব্বা পান্জাবিটা আপনাকে মানিয়েছে। চোখমুখের খুশি লুকাতে পারে না রেনু। হাতে খেজুরের বাটি নিয়ে সে দাড়িয়ে আছে।
জমির সাহেব ভাবলেন একবার বলবেন এরকম খরচ করার কোন মানে হয় না। রেনুর চোখে হাসির আভা দেখে আর কিছু বললেন না।

– তোমরা কিছু কিনো নাই?
রেনু উত্তরটা দিতে একটু সময় নেয়,
-আমাদের ঈদের কাপড় আছে।
জমির সাহেব খেজুর খেয়ে ঈদের নামাজের উদ্দেশ্য বেরিয়ে যান।
উৎসবের দিন আজ। নামাজ শেষে ছেলেমেয়ের দল বেরিয়ে পরে সেই উৎসবে। কেউ ব্যস্ত কোলাকুলিতে কেউবা আপ্যায়নে। জমির সাহেব অন্য সব ঈদের নামাজ শেষে স্কুলের মাষ্টারদের বাড়িতে যান। আজ তার নিজের মধ্যেবাড়ি ফেরার অদৃশ্ তাড়া। তার মেয়েরা অপেক্ষায় আছে!
জমির সাহেব ঘরে ঢুকতেই রানু দৌড়ে এসে হাতের জায়নামাজ নিয়ে বলল,
– আব্বা খাবার টেবিলে আসেন।

তিনি চেয়ার টেনে বসেন। টেবিল জুড়ে খাবার এর বাটি বিছানো- ফিরনি, সেমাই, নুডলস, জর্দা, হালিম,পিঠা,রসমালাই, হাসের মাংস, রুটি আর বিরিয়ানি। ঠিক আর সব ঈদের মত যেভাবে রানু রেঁধে সাজিয়ে রাখত ঠিক সেরকম। অথচ এই ঈদের কোন বাজার জমির সাহেব করেননি। এত আয়োজনের ব্যবস্থা করেছে রানুর মেয়েরা! যেভাবে প্রতি ঈদে রানু করতো!
বিনু জর্দার বাটিটা জমির সাহেবের দিকে এগিয়ে দিল। জমির সাহেব মুখে দিলেন। ঠিক রানুর হাতের রান্নার মত। মিনু তাল পাখা হাতে ভয়ার্ত চোখে বাতাস করছে। জমির সাহেব বুঝলেন না মাথার উপরে ফুল স্পিডের ফ্যান চলার পরও এই বাতাস করার প্রয়োজনীয়তা। রেনু আর বিনু পাশাপাশি অধীর আগ্রহে দাড়িয়ে আছে। জমির সাহেব যে কথাটা বলতে চাইলেও মুখে বাধছে, লজ্জা লাগছে তা হল, জর্দাটা ভাল হয়েছে। তিনি কথাটা বলতে পারলেন না।বললেন,
-তোমরা দাড়িয়ে না থেকে বসো।

রেনু , বিনু , মিনু একটু দূরত্ব রেখে পরের চেয়ারগুলোতে বসল। জমির উদ্দিন মুখ তুলে তার মেয়েদের দিকে তাকালেন। দেখলেন তারা সবাই রানুর আলমারিতে তুলে রাখা শাড়ি পড়েছে। যেন যেমন খুশি তেমন সাজো প্রতিযোগিতায় সবাই রানু সেজেছে! মজার ব্যাপার তাদের সবাইকে জমির সাহেবের কাছে রানু মনে হচ্ছে! রানুর সাথে তার মেয়েদের চেহারা আর স্বভাব এত মিল ছিল-তা আগে কখনো জমির উদ্দিন খেয়াল করেননি।

জর্দা খাবার পর জমির সাহেব রুটি দিয়ে হাসের মাংস খান। রেনু মাংস-রুটির বাটি এগিয়ে দিল।জমির সাহেব মাথা নিচু করে খাচ্ছেন। জমির সাহেবের রানুকে মনে পড়ছে। তার মেয়েদের জন্য অনুশোচনা হচ্ছে। তার চোখ ভিজে আসছে। বাষট্টি বছরের রিটায়ার্ড হেডমাস্টার জমির উদ্দিনের চোখে এই পানি একদম বেমানান।তার ইচ্ছে করছে তাড়াতাড়ি নিজের রুমে এসে দরজা লাগাতে।কিন্তু অদ্ভূত কারনে কেন জানি তার উঠে যাওয়ার শক্তিটাও নেই এই শরীরে। মুখের ভেতরে অনেকক্ষন ধরে রাখা রুটিটা নরম হয়ে আছে কিন্তু গিলতে পারছেন না! তার চোখ পানিতে টুইটুম্বুর। যেন চোখের মধ্যে একটুকরো পুকুর! সেই পুকুরটা দুঃখের বন্যায় সাগর হতে চাইছে!

তারপর তিনকন্যাকে অবাক করে দিয়ে জমির সাহেব কেঁদে উঠলেন। অনেকটা ফুপিয়ে। রেনুরা ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে রইল ডুকরে কেঁদে উঠা সামনের মানুষটার দিকে। তারপর কতগুলো হাত জমির সাহেবকে জড়িয়ে ধরলো। অথচ রানুর মৃত্যুর দিন এই হাতগুলো চেয়েছিল জমির সাহেব তাদের জড়িয়ে ধরুক! খুব করে জড়িয়ে ধরুক।আকাশভাঙ্গা কষ্টে ছায়া হোক একটু প্রশমনের। আজ সেই ভয়টা যেন শোকের কষ্টে কর্পূরের মত মিলিয়ে যাচ্ছে। জমির সাহেবের অবহেলা পাওয়া তিন কন্যারা বড় হয়েছিল রানুর গভীর মমতায়। রানু চলে গেলেও সেই বিশাল মমতা রয়ে গেছে। রানুর তিন কন্যা সেই মমতায় জমির সাহেবকে জড়িয়ে রেখেছে।রাখবে বাকি জীবন! রানু নেই। সেই নাই হবার মাঝেও যেন কিছু আছে। সেই শূণ্যতার পরেও কোথায় যেন পূর্ণতা! বিনু, রেনুরা জমির সাহেবকে ধরে কাদঁছে। যে কান্না এতদিন ডুকরে থেকেছে প্রত্যেকের মনের গহীনে। যে কান্না চেয়েছিল সবার দুঃখ নিয়ে শোকের বাঁধ ভাঙ্গতে। অবশেষে সে বাঁধ ভেঙ্গেছে। রানুর তিন কন্যা কাঁদছে। জমির উদ্দিন তার কন্যাদের নিয়ে কাঁদছে। এ কান্না কিছু প্রাপ্তির , কিছু অপ্রাপ্তির। আমাদের ভালবাসার মানুষগুলো আমাদের ছেড়ে চলে যায়। সেই চলে যাওয়ার মাঝে থাকে একরাশ বিষন্নতার ধুলো। অথচ তারপরেও যেন কোথায় কিছু থেকে যায়। থেকে যাওয়া মানুষগুলোর হাত আরও শক্ত করে ধরে আমরা বেঁচে থাকি।মৃত্যু সবসময় সব কেড়ে নেয় না, কখনো কখনো তা কিছু দিয়েও যায়!!!

লেখাঃফাহিমা সুরভী

Facebook Comments

About Priyo Golpo

Check Also

হুইসেল-whistle-abdul-zabbar-khan-jiboner-golpo

হুইসেল । Whistle

বিকেল পাঁচটার দিকে ঢাকা ইউনিভার্সিটি টিএসসি’র সামনে থেকে একটা রিকশা নিলাম। প্যাসেঞ্জার সুমি এবং আমি। …

error: Content is protected !!