Home / জীবনের গল্প / পোষ্টটি সকলের পড়া প্রয়োজন। আপনি সুখি এবং সফল হবেন।

পোষ্টটি সকলের পড়া প্রয়োজন। আপনি সুখি এবং সফল হবেন।

ব্যক্তিগতভাবে মিনিমাল লাইফ লিড করতে চাই। ডিসট্রাকটন কমে, কাজ অনেক দ্রুত হয়। আমরা যারা নেট/পিসিতে কাজ করি কমন প্রবলেম হাজারটা মাল্টি ট্যাব।হাজার রকমের চিন্তা।

আজকে একজন লেখকের একটা ভাল আর্টিকেল পড়লাম মিনিমাল লাইফ নিয়ে। আপানারাও পরে দেখতে পারেন প্রডাকটিভিটি অনেক বাড়বে হয়তো।

মিনিমালিজমকে আমরা অনেকে ডিজাইন কনসেপ্ট হিসেবে জানি। ইন্টারনেটে হয়তো মিনিমাল ডিজাইন বাসার ছবিও দেখেছি অনেক। সাদা রং এর সিম্পল বাসা তাতে একটা বিছানা কাম সোফা এবং আরো কিছু আসবাব যেন বাসাটাতে কিছুই নেই। একদম সিম্পল মিনিমাল ডিজাইন।

কিন্ত মিনিমালিজম শুধু ডিজাইন কনসেপ্ট না – চিন্তা করে দেখবেন – মিনিমালিজম জীবন যাপনের জন্যে অত্যন্ত গুরুত্তপুরন একটা কনসেপ্ট।

বিশেষত, এই ইন্টারনেট এবং ডিস্ট্রেকশানের যুগে যখন অনেক কিছু আপনার মনোযোগ কেড়ে নিতে চাইছে প্রতি মুহূর্তে মিনিমাল থিঙ্কিং এবং মিনিমাল লিভিং আপনাকে বাচাতে পারে, দিতে পারে আপনাকে পিক প্রডাক্টিভিটি এবং অপ্টিমাল আউটপুট।

মিনিমাল লিভিং এর প্রধান কনসেপ্ট হচ্ছে, আপনার অপশন কমিয়ে নিয়ে আনা এবং আপনার মনকে ফোকাস করতে বাধ্য করা।

মনে করুন। এক সময়ে আমি শুধু প্রথম আলো রাখতাম। এরপরে বনিক বার্তা ভালো লাগা শুরু হলো। তখন ওইটাও রাখলাম। তো দুইটা পেপার রাখতে গিয়ে দেখলাম। আমি সকালে একটা ইন্ডিসিশানে ভুগছি। কোন টা পড়বো ? প্রথম আলো নাকি বনিক বার্তা নাকি দুইটাই।

তো এই ইন্ডিসিশানের কারনে আমার মাঝে মাঝে কোন টাই পড়া হইতে না লাগলো।

তো আমি কি করলাম, প্রথম আলো বাদ দিয়ে দিলাম। 

মিনিমালিজম তাই। আপনার জীবন থেকে এক্সেস বা বাহুল্য কমিয়ে ফেলা। এবং ঠিক যেইটা লাগবে, সেইটা নিয়ে থাকা।

দুইটা পত্রিকা রাখাতে আমার মনের মধ্যে যে দ্বিধা সেইটার একটা বড় নিউরোলজিকাল বিষয় আছে।

সেইটা হচ্ছে আমাদের মন সিদ্ধান্ত নিতে পছন্দ করেনা। সিদ্ধান্ত নিতে হলে তাকে প্রচুর ক্যালোরি ক্ষয় করতে হয় তাই সে ক্যালোরি বাঁচানোর জন্যে, হ্যাবিট লুপ তৈরি করে, যেইটা তার একটা ইভলশনুনারি কোপিং ম্যাকানিজম।

কিন্ত আপনি যখন হ্যাবিট লুপ তৈরি না করে, বারে বারে তাকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেন তখন তার উইল পাওয়ারের ক্ষয় হয়। এবং উইল পাওয়ার -সাইন্স এখন বলে- আপনার হাত পায়ের মাসলের মত একটা মাসেল। যেইটা অধিক ব্যবহারে টায়ার্ড হয়ে যায়।
ফোকাস এটেনশান এই গুলো ধরে রাখার জন্যে উইল পাওয়ারের বড় ভুমিকা রয়েছে।

মিনিমাল জীবন আপনাকে এই উইল পাওয়ার ধরে রাখতে হেল্প করে। যেহেতু, আপনি আপনার জন্যে অপশন কমিয়ে আন্তেছেন। অপ্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনি আপনার খুব গুরুত্তপুরন এই রিসোর্সকে নস্ট করছেন না।

মিনিমালিস্ট শুধু মাত্র নিউজপেপারের ক্ষেত্রেই না, আপনি জিবনের অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন।

আপনার ডেস্কে একটা কাগজ, একটা কলম।

আপনার ড্রেস একই রকম।

খেয়াল করেছেন, স্টিভ জবস বা মার্ক জুকারবারগ কেন সব সময় একই ড্রেস পরে ? এইটা কি শুধু তাদের ফ্যাশান স্টেটমেন্ট ? না। এইটা মিনিমালিস্ট থিঙ্কিং।

সে সকালে উঠেই নিজেকে, কোন কাপড় পরবে সেই সিদ্ধানত নেয়ার “বারডেন অফ চয়েজ” থেকে মুক্তি দেয়। কারন তাদের জীবন হাইলি অপ্টিমাইজড। প্রতিটা সেকেন্ড তারা ক্রিয়েটিভ কাজে ব্যবহার করতে চায়, কি কাপড় পরবে সেইটা নিয়ে ৩০ সেকেন্ড সময়ও সে ব্যয় করবেনা। (এইটা আমি ফাকা বা আন্তাজে মারি নাই। জুকারবার নিজেই ব্যাপারে বলছে)।

কিন্ত মিনিমালিস্ট কি শুধু মাত্র, ড্রেস সেন্স, নিউজ পেপারে আর টেবিল অরগানাইজেশান ?

নাহ। এই যে আপনি লাইব্রেরিতে গিয়ে দোকান থেকে কয়েকটা বই নিয়ে আসলেন । কি করলেন? নিজেকে বারডেন অফ চয়েজ দিলেন। এইটা পড়ি না, অইটা পড়ি। ফেসবুকে আপনি আপনার সকল বইয়ের স্তুপ সহ চায়ের কাপের ছবি দিলেন- এই যে ছুটিতে এই গুলো পড়বো। কিন্ত আপনি একটাও পরলেন না। পারলেন না। আপনার বারডেন অফ চয়েজ আপনাকে কাহিল করে দিলো।

অনেককে দেখেছি, ইন্টারনেট থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন গিগাবাইট ইবুক ডাউনলোড করে। আমার লাইফের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, একজন ব্যক্তির ইবুক পড়ার জন্যে ব্যয় কৃৎ মিনিট তার ডাউনলোড করা ইবুকের মেগাবাইটের ব্যাস্তানুপাতিক।

একজন মিনিমালিস্ট এইটা করবেনা। সে এক্টাই বই কিনবে বা একটাই বই আনবে। সেইটা শেষ করবে।
দেন পরের বইটা অর্ডার করবে।

এইটাই মিনিমাল থিঙ্কিং। আপনার অপশন কমিয়ে আনা। মনকে বাধ্য করা । এইটা খুব ইম্পরট্যান্ট একটা ফেনমেনন যেইটা বর্তমান রিচারড থ্যালার যে নোবেল পেয়েছে তার নাজ থিওরি এবং সারা জিবনের কাজের জন্যে সেই খানে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্ত টারমটা খেয়াল নাই।

সো শুধু ইবুক না। ওয়াট এবাউট ইউর ইমোশোন্স।

আপনার রাগ ,ঘৃণা ,প্রেম, পিরীতি, ক্ষোভ, দুক্ষ ?

মিনিমালিস্ট থিঙ্কিং হচ্ছে, লেট গো। যে ইমোশান আপনার কাজে আসবেনা। যে ব্যক্তি আপনার জীবন থেকে চলে গ্যাছে- লেট গো। আপনার নেগেটিভ ফিলিংসকে কমায় নিয়ে আসেন। এমন কি পজিটিভ ফিলিংসকেও কমায় নিয়ে আসেন। অল্প কিছু ইমোশনে বাস করেন, যেইটা আপনার জীবনে কম টেনশান দেয়। শান্তি আনে।

এই যে আপনার ফেসবুকে, ৪০০০ ফ্রেন্ড। নিউজ ফিডে ঢুকেই দেখেন অজস্র অপরিচিত মানুষের ছবি। এরা কারা ? আপনি তাদের চিনেন না। এদের যাপিত জীবনের ছবি কেন আপনার জীবন থেকে এক সেকেন্ড ও নেবে।

ঠিক আছে, আপনি জিয়া হাসানকে ক্লোজ ফ্রেন্ড হিসেবে দিয়ে রাখতে পারেন যেন মিস না যায়। 

কিন্ত বাকি কারা ? লেট গো ডিলিট করেন। মিনিমালিস্ট হন।

আপনি ব্যায়াম করবেন। একদিন ভাবেন যোগ। আরেক দিন ভাবে এরোবিক্স, এক দিন ওয়েট ট্রেনিং। কেন ? জাস্ট একটা করেন। ভালো মত করেন। জাস্ট ওয়ান। আপনি যদি সকালে উঠেই নিজেকে বারডেন অফ চয়েজ দেন যে কোন ভিডিওটা ছাড়বো, আপনি তখন শুরুতেই মনের গুরুত্তপুরন এনারজি নিয়ে ফেলছেন। এর পরে মন আপনাকে বলবে,ধুর… বাদ দে।

এই ভাবে জিবনের প্রতিটা ক্ষেত্রেই মিনিমালিস্ট তার শুধু যেইটা লাগবে, এবং অবশ্যই লাগবে এবং যেইটা ছাড়া তার কোন মতেই চল্বেনা, সেই অপশনটাকে খুজে বের করে।
তারপর সেইটা নিয়েই থাকে। যদি সেইটা নিয়ে তার না চলে তবে সে পরবর্তী অপ্সনে মুভ করে।

অজস্র মেন্টাল প্রজেক্ট নিয়ে বসে আছেন। অজস্র লেখার আইডিয়া নিয়ে বসে আছেন। কিন্ত কোনটাই হচ্ছেনা। হচ্ছেনা কারন, আপনি আপনার মনকে বারডেন অফ চয়েজ দিয়ে একেবারে কাবু করে রেখছেন। জাস্ট একটায় ফোকাস করেন। জাস্ট ওয়ান। এন্ড ডু ইট নাইসলি।

আগেই বলেছি, বিশেষত এই ডিজিটাল জীবনে যখন স্মারট ফোন আপনার জিবনের বড় একটা সময় কেড়ে নিচ্ছে, ফিয়ার অফ মিসিং আউট বা ফোমো যখন মহামারি তখন আপনি আগে থেকেই আপনার মনের জন্যে অপশন কমায় দেন। খুজে নেন, ঠিক কোনটা ছাড়া আপনার চলবেই না । পাচ গিগা গান ডাউনলোড দেয়ার দরকার নাই, একটা এল্বাম ভালো মতে শুনেন।

এইটা একটা চিন্তা পদ্ধতি, যেইটা আয়তবে অনেক কষ্ট করতে হবে। কারন আমরা এখেন এক্সেসে বা বাহুলে অভ্যাস্ত হয়ে গ্যাছি। আমরা যদি দেখি, কেউ প্রতিদিন একই রকম কাপড় পরে আমরা খুব সম্ভবতা তাকে সামাজিক ভাবে স্টিগ্মাটাইজ করবো। কিন্ত আপনি ভয় পাবেন না।

আপনি যদি আপনার জীবনকে অপ্টিমাইজ করতে চান তবে, বি মিনিমালিস্ট। বন্ধু বলেন, ইমোশন বলেন, ফেসবুক বলেন, লেখালেখি বলেন, রুমের ডিজাইন বলেন সব জায়গাতেই মিনিমালিস্ট থিঙ্কিং আপনাকে মুক্ত করবে। আপনাকে অপ্টিমাম প্রডাক্টিভিট অরজনে হেল্প করবে।

একজন মিলিমালিস্টকে লিমিটেড মনে হলেও, সে লিমিটেড না, সে ফ্রি, বরং আপনিই আপনার বারডেন অফ চয়েজের কারনে লিমিটেড হয়ে আছেন।

এক বার চিন্তা করে দেখেন।

– লেখক জিয়া হাছান

Facebook Comments

About Priyo Golpo

Check Also

আপনার টিনএজার সন্তানটিকে সামলাবেন কি করে?

আপনার টিনএজার সন্তানটিকে সামলাবেন কি করে? গত কয়েকমাস ধরেই শালিনী তার তেরো বছরের মেয়ে মেঘনার …

error: Content is protected !!