Home / অনুপ্রেরণা / চারপাশে মানুষ নানা কষ্ট নিয়ে ঘুরছে

চারপাশে মানুষ নানা কষ্ট নিয়ে ঘুরছে

আমার বাবা যেদিন মারা গেলেন, সেদিনও আমি দোকান থেকে কলা কিনছিলাম।
আর মনে মনে ভাবছিলাম- “তুই কি পাগল হয়ে গেছিস! মাত্রই তোর বাবা মারা গেছে আর তুই এখানে কলা কিনছিস!”
আসলে কলাটা লাগত। কারণ পরদিন সকালে নাস্তায় খাওয়ার মত কিছু ছিল না। তাই আর কি।

সামনে আরও অনেক কাজ বাকী। তাই অচিরেই হয়ত কান্না ঠেকিয়ে কোন এক পার্কিং লটে জায়গা খুঁজতে থাকব কিংবা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকব কোন রেস্টুরেন্টের লাইনে অথবা বসে থাকব পার্কের বেঞ্চিতে।
আমার একটা ব্যাজ পড়ে থাকতে খুব ইচ্ছা হচ্ছিল। যেখানে লেখা থাকবে- “ভাই, আমার বাবা মারা গেছেন। একটু ছাড় দেন।”

রক্তবর্ন চোখ কিংবা কথার মাঝখানে ধরে আসা গলা দেখে কেউ হয়ত জিজ্ঞাসা করে কিন্তু কেউ আসলে জানেনা আমার ভিতরে এবং আশেপাশে কি চলছে আসলে…
যদিও সেই ব্যাজ পড়ার ইচ্ছা আমার নেই তাও মনে হয় যেন এই ব্যাজটা দেখে হয়ত আশেপাশের মানুষগুলো আমাকে একটু দম ফেলার সুযোগ দিত, আরেকটু নমনীয় হয়ে কথা বলত বা আরেকটু সাবধানে চলত। অসহনীয় সব কিছুকে তখন হয়ত সহ্য করা আরেকটু সহজ হত।

আশেপাশের প্রত্যেকটা মানুষ- যার সাথে তুমি শপিং এর লাইনে আছ, রাস্তা পার হচ্ছ, পাশে বসে কাজ করছ, ফেসবুকে আলাপ করছ কিংবা খাবার টেবিলের অন্য প্রান্তে দেখছ- সবাই বেঁচে থাকার মাশুল দিচ্ছে ! সবাই কারো জন্য দুঃখ পাচ্ছে, কারো অভাব বোধ করছে কিংবা কারো জন্য দুশ্চিন্তা করছে। কারো হয়ত সম্পর্কে টানাপোড়ন, কারো হয়ত ঋণ শোধ করতে দেরী হয়ে যাচ্ছে, কেউ হয়ত বাচ্চার পরীক্ষার ফল নিয়ে চিন্তিত কিংবা কেউ হয়ত প্রিয়জন হারানোর কষ্ট এখনও ভুলতে পারছে না।

প্রতিটা মানুষ একটু শান্তির জন্য যুদ্ধ করছে, যুদ্ধ করছে নিত্যদিনের কাজগুলো করতে যেয়ে যেন কলার দোকানে কিংবা পোস্ট অফিসে ভেঙে না পড়ে।

আহত, ক্লান্ত, জর্জরিত মানুষে ভরা আমাদের চারপাশটা। কঠিন কোন রোগে আক্রান্ত বাচ্চার বাবা-মা, বিচ্ছেদ হতে থাকা কোন দম্পতি, শোকতপ্ত মানুষ, স্কুলে নিপীড়িত শিশুটা, হতাশ তরুণ, অভাবী পরিবার এমন অনেক।
সবাইই কষ্টে আছে তবে কেউ কিন্তু সেই ব্যাজটা লাগাচ্ছে না- “ভাই, কষ্ট হচ্ছে, একটু ছাড় দেন।”

কেউই যেহেতু ব্যাজটা পড়ে না তাই দায়িত্বটা আমাদের উপরই পড়ে। একটু তাকানো সবার দিকে। অফিসে- গ্যাস স্টেশনে সব জায়গায় । ভেব না তারা সব নিশ্চিন্ত। তারা সবাই আসলে ‘টিকে’ আছে… আর আমাদের একটু সহমর্মিতাই তাদের টিকে থাকার অস্ত্র হতে পারে।

মানুষের দিকে এগিয়ে যেতে হবে এমনভাবে যেন তারা খুবই নমনীয়, ভঙ্গুর এবং অমূল্য কোন গুপ্তধন। মনে রাখতে হবে তাদের না বলা গল্পগুলো কতটা জোরালো হতে পারে।

এই পৃথিবীতে কেউ তার শোকের ব্যাজ পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে না, তোমাকে অনুতপ্ত হতে বলছে না কিংবা চিৎকার করে বলছে না – তারা কতটা ভয়ে আছে। কিন্তু তুমি যদি একবার ভালোভাবে তাকাও, তুমি দেখবে।

চারপাশে মানুষ নানা কষ্ট নিয়ে ঘুরছে।

একটু ছাড় দিও।

অনুবাদ: আহমেদ বিন হোসাইন বাবু
মূল: John Pavlovitz

Facebook Comments

About Priyo Golpo

Check Also

হুইসেল-whistle-abdul-zabbar-khan-jiboner-golpo

হুইসেল । Whistle

বিকেল পাঁচটার দিকে ঢাকা ইউনিভার্সিটি টিএসসি’র সামনে থেকে একটা রিকশা নিলাম। প্যাসেঞ্জার সুমি এবং আমি। …

error: Content is protected !!