Home / অনুপ্রেরণা / লেটস ফাক দা ডিপ্রেশন। লেটস স্টার্ট ডুয়িং সামথিং।

লেটস ফাক দা ডিপ্রেশন। লেটস স্টার্ট ডুয়িং সামথিং।

১৮-১৯ বছর বয়সে আমরা যখন প্রেম ভালোবাসা ,ডিপ্রেশন ইত্যাদি নিয়ে চিন্তায় থাকি আর আমাদের বাবা মায়েরা চিন্তায় থাকে কিভাবে সন্তান কে পাবলিকে ভর্তি করানো যায় , সে বয়সে উড়িষ্যাড় রিতেশ আগারওয়াল চিন্তা করতেছিল কিভাবে একটা নতুন ব্যাবসা শুরু করা যায়।

আগাড়ওয়াল ট্রাভেল করতে পছন্দ করত। সে লক্ষ করল যেসব মিডলক্লাস মানুষ রেগুলার ট্রাভেল করে তাদের জন্য বিভিন্ন জায়গায় বাজেটের মধ্যে ভালো রুম পাওয়া টাফ। এখন ওর তো সামর্থ্য নেই প্রতিটা স্টেটে চেইন হোটেল স্থাপন করার। কিন্তু একটা সামর্থ্য আছে।

একটা ওয়েবসাইট খোলার। যেটার নাম OYO ডট কম। আর বিভিন্ন জায়গায় খুঁজে খুঁজে কম বাজেটের ভালো মানের হোটেল গুলোকে ফিল্টার আউট করে সেগুলোকে রেন্ট নিয়ে একটু লাভে ট্রাভেলারদের কাছে ভাড়া দেয়া।

মানে সোজা কথা ব্ল্যাকে রুম ভাড়া দেয়া। জাস্ট লাইক সিনেমার টিকেট সেল করা। লিসেন ব্যাবসায় সত অসত বলে কথা নেই।

উড়িষ্যা শহরে মাত্র ১১ টা হোটেল রুম ৬০০০ রুপিতে ভাড়া নিয়ে শুরু করা রিতেশ আগারওয়ালের OYO ডট কমের এখন সারা ইন্ডিয়াতে ১৭০ টা শহরে ৬৫ হাজার রুম নেয়া আছে।

তুমি যদি কম বাজেটে ভালো মানের হোটেল চাও জাস্ট ওদের ওয়েবসাইটে ঢুকে লোকেশন দিবা তোমার সামনে চলে আসবে এভেইলেবল রুমগুলা। এই খোজার কাজটা করার জন্য তোমার থেকে তারা একটা ফি নেবে। এটাই ওদের ব্যাবসা।

এই বছর OYO ডট কমে বিদেশী ইনভেস্টররা ৫০০ কোটি রুপি ইনভেস্ট করেছে। হোটেল রুম ও রিতেশের না ,ইনভেস্টমেন্টও রিতেশের না কিন্তু মিলিয়নিয়ার হল রিতেশ!
জাস্ট লাইক এয়ার বিএনবি।

কেমনে!

হার্ডওয়ার্ক টা রিতেশের। আইডিয়া ,প্ল্যানিং এবং ইনভেস্টরদের চোখে বিনিময়যোগ্য প্রজেক্ট হিসেবে তুলে ধরার ক্রেডিটটা রিতেশের।

রিতেশের সাথে ওর ক্লাসে যারা ফার্স্ট ,সেকেন্ড বয় যারা ছিল তারা এখন কোথায়? রিতেশ ইজ এমাং দা টপ ৫০ এন্টারপ্রেনিউর্স ইন দা ওয়ার্ল্ড।

সত্যি বলতে এগুলা রুপকথার গল্প না। এগুলা বাস্তব সাকসেস স্টোরি। ই কমার্স, ইন্টারনেট আমাদের এই গ্রাউন্ড দিচ্ছে।

বর্তমানে জগতে টাইম ইজ দা কারেন্সি নাউ। কে কার আগে কাজে নেমে পড়ল। তোমাদের ৫ বন্ধু আছে। পাঁচ বন্ধু মিলে ৫ টা সাইকেল কেন। প্রতিটা সাইকেলের দাম দশ হাজার টাকা।

টাকাটা ম্যানেজ করো পরিবার কে বুঝিয়ে। এরপর একটা ফেসবুক পেজ খুলো। জানিয়ে দাও তোমাদের শহরে ঘরে ঘরে হোম ডেলিভারি তোমরাই দাও। পরিচিত কয়েকজন অনলাইন সেলারের সাথে বস। একটা রেট ফিক্স কর। প্রতিদিন যদি সাইকেলে করে ১০ টা ডেলিভারি দাও তাহলে তোমার দিনে ইনকাম মিনিমাম ৬০০ টাকা মাসে ১৮০০০ টাকা।

বলা সহজ। করতে গেলে খাটতে হবে।

এভাবে তুমি যদি বসে না থেকে ছাত্রজীবনেই কাজ করা শুরু করো তাহলে, গ্র‍্যাজুয়েশন শেষ হলে তোমার বন্ধুরা যখন চাকরির সন্ধানে নামবে তুমি তখন একটা ছোটখাটো স্টার্ট আপের মালিক।

বিসিএস ক্যাডার হওয়াত চাইতে কি খারাপ কিছু?

সারাদিন ফেসবুকে বসে সরকারকে গালি দিয়ে ,দেশকে গালি দিয়ে ,ডিপ্রেসড পোস্ট দিয়ে কিচ্ছু উদ্ধার হবেনা। জীবনে ফুর্তি কর প্লাস কাজ কর। এজ আর্লি এজ পসিবল।

সরকার তোমাকে মুখে তুলে খাওয়াবে না। সরকার তোমাকে প্রযুক্তি দিয়েছে এন্টারপ্রেনিউয়ার হওয়ার জন্য পরিবেশ দিয়েছে সামনে দু লাখ টাকা করে লোন ও দিবে।

কিন্তু কাজে নেমে পড়তে হবে তোমাদের। এ দেশের ইয়ুথকে। টাইম কস কোরোনা। যেদিন পকেটে টাকা থাকবে না ,সেদিন বন্ধু বান্ধব প্রেম ভালোবাসা সব উড়ে যাবে।

বাবা মায়েদের ও উচিত ছেলেমেয়েদের উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করা। ডু সামথিং ইউনিক।

বেকারত্ব এখন একটা চয়েজ। কেউ লিখে দে নাই তোমারে চাকরি করতেই হবে। এক একজন একেক কাজে ফিট।

আমাদের সময়ে ছাত্রজীবনে টাকা কামানোর একমাত্র উপায় ছিল টিউশনি করা।

আর এখন তোমাদের সামনে কত সুযোগ। রাইড শেয়ারিং জব , ই মার্কেটিং জব , ক্যাটারিং জব কত কি।

লেটস ফাক দা ডিপ্রেশন। লেটস স্টার্ট ডুয়িং সামথিং।

লেখাঃ Warish Azad Chowdhury

Facebook Comments

About Priyo Golpo

Check Also

The story of the farmer's son VP ... DUCSU VP Nurul Haque Noor -কৃষক ছেলের ভিপি হওয়ার গল্প ... ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নূর

কৃষকের ছেলের ভিপি হওয়ার গল্প… ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর

পটুয়াখালীর গলাচিপার কৃষক মো. ইদ্রিস হাওলাদারে ছেলে নুরুল হক নুর। শুনেছি নুরের বাবা পারটাইম চা …

error: Content is protected !!