Home / অনুপ্রেরণা / ১৯৭১ এ অনেক মেয়েই অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন

১৯৭১ এ অনেক মেয়েই অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন

বিজয় দিবস মানেই এখন টিভিতে, সভাতে, সেমিনারে সবার বক্তৃতা। সেই বক্তৃতায় কমন লাইন হলো – ” ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত আর অনেক মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা।” আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ এটাই জানেনা যে ১৯৭১ এ অনেক মেয়েই অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন, ডাক্তার এবং নার্স হয়ে সেবা দিয়েছিলেন। আমি সেই সব মুক্তিযোদ্ধা নারীদের কথা আজ বলছি।

গীতা মজুমদার –
ফরিদপুরের মেয়ে, যুদ্ধের ট্রেনিং নিতে গিয়েছিলেন কলকাতায়। মুক্তিযোদ্ধার ট্রেনিং এবং ফার্স্ট এইড ট্রেনিং নিয়ে তিনি দেশে আসেন এবং যুদ্ধে যোগদান করেন।তার কোন স্বীকৃতি নেই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে।

গীতা কর –
১৯৭১ সালে ১৫ বছরে ছোট্ট একটি মেয়ে। প্রশিক্ষণ নেন গেরিলা যুদ্ধে।১০০ জনের মত মেয়ে একসাথে ট্রেনিং নেন এবং ১৫ জন মেয়ে মিলে টানা ১০ দিন শুধু কলা এবং পানি খেয়ে বাংলাদেশে এসে যুদ্ধে যোগদান করেন। তাঁর নাম কিন্তু গেজেটে নেই।
.
শিরীন বানু মিতিল-
যুদ্ধের সময় ছিলেন পাবনাতে। সেখানেই অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেন পুরুষ সেজে। যুদ্ধ করে তাঁর পাওয়া একটি তা হলো স্টেটসম্যান পত্রিকায় একটি ইন্টারভিউ।

ড. লাইলা পারভীন বানু-
যুদ্ধের সময় চিকিৎসক হিসেবে ছিলেন এবং যুদ্ধের ট্রেনিংও ছিল তাঁর।

ডাক্তার নুরুন্নাহার জহুর-
চট্টগ্রামে ‘মহিলা মুক্তিযোদ্ধা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী ‘ গড়ে তুলেছিলেন এবং মেয়েদের ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করেন।
আতিমা মওলা-

তিনি এবং তারঁ স্বামী ছিলেন শুটার। দুজন মিলে অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে অস্ত্র চালনা শিখিয়েছিলেন।
কাঁকন বিবি-

সুনামগঞ্জ এর মেয়ে। বিয়ে হয়েছিল পাঞ্জাবি এক সীমান্তরক্ষীর সাথে। স্বামী ১৯৭১ এ যুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে যুদ্ধে যোগ দেয় এবং স্বামীর খবর নিতে গিয়ে পাকিস্তানিদের নির্যাতনের শিকার হন। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

বীথিকা বিশ্বাস ও শিশির কণা-
বৃষ্টির রাত, বড় নদীতে নোঙ্গর ফেলেছে পাকিস্তানের গানবোট। গ্রেনেড চার্জ করে তা উড়িয়ে দিতে হবে। এই রিস্কি অপারেশনের দায়িত্ব দেয়া হলো এই দুই তরুণীকে। জীবন বাজী রেখে এই অপারেশনে তাঁরা সফল হয়ে ফিরেন। আরো অনেক রিস্কি অপারেশনে তাঁরা ছিলেন। কিন্তু আমরা এমন অকৃতজ্ঞের জাত যে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই বীথিকা বিশ্বাস কে আমরা দেশে থাকতে দিলাম না। যেই মৃত্যুভয় তাঁর যুদ্ধের সময় ছিলোনা সেই মৃত্যুভয়ে তাঁকে এখন স্বাধীন দেশ ছেড়ে ভারতে থাকতে হচ্ছে। আর পিরোজপুরে ছোট একটি চাকরি করে দিন যায় শিশির কণা দেবীর। ৯ নম্বর সেক্টরে তাঁরা যুদ্ধ করেছিলেন কিন্তু গেজেটে তাদের নাম নেই।

আলেয়া বেগম –
সাহসী মুক্তিযোদ্ধা আলেয়া বেগম চুয়াডাঙ্গায় যুদ্ধ করেছিলেন পুরুষ সেজে। অন্যান্য নারীদের মতোই তাঁর কোন স্বীকৃতি নেই।

আলমতাজ বেগম ছবি-
বিয়ে ঠিক হওয়ার পরেই শুরু হয় যুদ্ধ। বড় দুই ভাই এবং হবু বরের সাথে যুদ্ধে যান এবং গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

করুণা বেগম-
পাকিস্তানিদের হাতে স্বামীর মৃত্যুর পর ৩ বছরের অবুঝ শিশুকে রেখে যুদ্ধে যোগ দেন এবং গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

আরো অনেক অনেক নারী মুক্তিযোদ্ধা আছেন যাদের কেউ মনে রাখেনি। তাঁদের কষ্টের কথা কেউ জানেনা। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের আড়ালে তাঁদের কেউ চিনেনা। বক্তৃতায় এইসব সাহসী নারী মুক্তিযোদ্ধাদের কথাও বলুক সবাই। তাঁদের বীরত্বের কথাও সবাই স্মরণ করুক আজকে বিজয়ের দিনে।

তথ্যসূত্র : মুক্তিযুদ্ধে নারী, মালেকা বেগম। (প্রথমা প্রকাশনী)

লিখেছেনঃ Tasmin Tasmia

Facebook Comments

About Priyo Golpo

Check Also

গল্প বিচিত্রা – আপনার পড়া উচিত

(১) আজকে বিচিত্রা খুলে অদ্ভুত একটি বিজ্ঞাপন দেখলো সুমি। একজন প্রবাসী লিখেছেন,” আইডিয়াল স্কুল এবং …

error: Content is protected !!