Home / পত্রসম্ভার / প্রিয় ওহে লজ্জাবতী

প্রিয় ওহে লজ্জাবতী

প্রিয় কলমি লতা,

তোমায় জানাচ্ছি শীতের সকালের ঘাসে জমে থাকা শিশির বিন্দুর শুভেচ্ছা।

তুমি নিশ্চয়ই কম্বলের নিচে উষ্ণতা উপভোগ করায় নিমগ্ন। আমি কিন্তু সেই জন কিটসের নাইটিঙ্গেলের শীশের কথা ভাবছি তোমায় শোনাব বলে।

ভাবছি সেই জসীমউদ্দীনের “রাখাল ছেলের” মটরশুটি ভিটের কথা, তোমায় দেখাব বলে।

আমি সেই নজরুলের গীতিকাব্যের সোনার ধানের কথা ভাবছি, তোমায় অনুভব করাব বলে।

ওহে রক্তজবা!
তোমায় লোভ দিলাম। আসল কথা হল, আল্লাহ সহায় থাকলে আগামী দুয়েকদিনে বাড়ি যাচ্ছি।

তোমায় কোন লিখিত কার্ড ছাড়া এই পত্রের মাধ্যমে জসীমউদ্দীনের “নিমন্ত্রণ” পত্র দিলাম। তুমি কি যাবে আমার সাথে? হবে আমার ভ্রমণসঙ্গী? আকাঙ্খা করবে ধুলোমাটিতে দাগ দিয়ে কুতকুত খেলার? অনুভব করবে কি কিছু সফল স্মৃতি গড়ার?

ওহে টগরফুল!
তোমায় নিয়ে সাতসকালে খালি পায়ে হাটব শিশির জড়ানো ঘাসের উপর। পুকুরঘাটের বাধানো শানে জমে থাকা শিশিরে চমৎকার করে তোমার নামটা লিখে দিব। তারপর যখন রক্তিম আভা ছড়িয়ে সূর্যমামা উকি দিবে, তখন তোমায় নিয়ে যাব শিমুলতলা। উপভোগ করবে রক্তরাঙা শিমুল ফুলের মায়াবী রুপ।

যখন সামান্য দুপুর হবে তখন কুসুম রোদে তোমায় নিয়ে হেটে যাব ধানক্ষেতের আইল দিয়ে। আর কিছু মটরশুটি ছিড়ে ছিড়ে তোমার হাতে দিব। মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখবে আর সুহাসিনী হয়ে খিলখিল করে হাসবে উচ্ছসিত আনন্দে।

ওহে লজ্জাবতী!
শীতের সকালে মায়ের হাতে রাধাঁ খেজুর রসের পায়েস খাওয়াব। খাওয়াবো রসে ভিজানো চিতই পিঠা। পুকুর থেকে রুই মাছ ধরে তার মাথা দিয়ে রান্না করা মাশকলাইয়ের ডালও খাওয়াবো। আরও খাওয়াবো ঢেকিতে করা আল্লা চালের গুড়ো দিয়ে তৈরী মলিদা। আর দুপুরে খাবার পরে কুচি কুচি করে সুপারি কেটে একগাল খিলি পানও তৈরী করে দেব। যাবে কি আমার সাথে?

ইতি,
কখনও “ফেরদা” আবার কখনও “ফিদ্দুস”

লেখকঃ Ahsanullah Ferdaus

Facebook Comments

About Priyo Golpo

Check Also

ভালোবাসা হবে রোজকার ডাল ভাতের মত। বুকের পাঁজরে মিশে থাকবে।

হুমায়ুন ফরিদী – সুবর্ণা মুস্তফা , হুমায়ূন আহমেদ – গুলতেকিন,তাহসান মিথিলার মত সেলেব্রেটিদের প্রেম বিয়ে …

error: Content is protected !!