Home / উপন্যাস / রুম ডেট
জোর করে রুমডেট ভালোবাসার নামে নোংরামী

রুম ডেট

‘রুম ডেট করতে তোমার তাহলে কোন আপত্তি নেই তাইতো?’ ইসরাতের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলাম। ইসরাত কিছু বলছেনা চুপচাপ বসে আছে। আমি বিরক্তির সাথে বললাম, ‘কি হলো কিছু বলছো না যে।’
ইসরাত আমার চোখে চোখ রেখে বলল, ‘এটা না করলে হয়না?’
আমি দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে বললাম, ‘ঠিক আছে। তুমি যখন রাজি না তাহলে আমাকে ডাকলে কেন? তুমিই বা আসলে কেন? আমি তো বলেছিলাম যদি আমার প্রস্তাবে রাজি থাকো তাহলে এসো, নাহলে আসার কোন দরকার নেই। আমি রিকশা ডেকে দিচ্ছি চলে যাও।’
‘তুমি আমার সাথে এমন আচরন করছো কেন?’
‘কেমন আচরন করছি আমি? ও আচ্ছা আমার আচরন এখন তোমার কাছে খারাপ মনে হচ্ছে। দেখ ইসরাত আমারো কিছু চাহিদা আছে। আমি তোমাকে কোন কিছুর জন্য জোর করতে চাইনা। যদি আমার চাহিদা পূরণ করতে না পারো তাহলে যেতে পারো। তবে হ্যাঁ আমাকে তখনি ফোন করবে যখন আমার প্রস্তাবে রাজি থাকবে। তার আগে না।’
কথাগুলো বলে আমি উঠে চলে আসছিলাম, ইসরাত আমার হাত টেনে ধরলো। আমি থমকে দাঁড়ালাম। ইসরাত মাথা নিচু করে আছে। ইসরাতের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে বললাম, ‘আবার কি হলো? কিছু বলবে?’
‘আমি রাজি।’ ইসরাত আমার দিকে না তাকিয়েই জবাব দিলো।
ইসরাতের কথায় বেশ অবাক হলাম। অবাক হওয়াই স্বাভাবিক কেননা আমি ভেবেছিলাম ইসরাত কখনো রাজি হবেনা। গত দু’সপ্তাহ ধরে তো এটাই মনে হচ্ছিলো। দু’সপ্তাহ আগে ইসরাতকে রুম ডেটের কথা বলেছিলাম। তখন ইসরাত রাজি হয়নি। এই দু’সপ্তাহ ইসরাতের সাথে দেখা করা তো পরের কথা ফোনেও ঠিকমতো কথা বলিনি। ইসরাত বারবার ফোন দিতো আমি রিসিভ করতাম না। মেসেজ করলে মেসেজের রিপ্লাই করতাম না। যাক আমার কৌশল কাজে দিয়েছে তাহলে। শেষমেষ ইসরাত রাজি হয়েছে।
.
কিন্তু সমস্যা হলো ইসরাতকে নিয়ে কোথায় যাবো। আমি থাকি মেসে। মেসে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। এ শহরে আমার পরিচিত কোন বন্ধু বান্ধবের বাসা নেই। উপায় একটাই আবাসিক হোটেল। ইসরাতের দিকে তাকিয়ে বললাম, ‘চলো।’
‘কোথায়?’
‘আবাসিক হোটেলে।’
‘সেখানে কেন।’
আমি ভ্রু কুঁচকে ইসরাতের দিকে তাকালাম। ইসরাত বলল, ‘না মানে অন্য কোথাও?’
‘অন্য কোথাও সম্ভব না।’
একটা রিকশা ডেকে উঠে বসলাম। ইসরাত এখনো রাস্তার পাশের বেঞ্চটাতে বসে আছে। ইসরাতকে ডাক দিলাম, ‘কি হলো বসে থাকলে কেন? আসো।’
ইসরাত এসে রিকশায় বসলো। ইসরাত রিকশায় বসার সময় দুজনের মাঝে তার ব্যাগটা রাখলো। বিষয়টা আমার চোক এড়ালোনা। সে এমনটা কখনো করতোনা। রিকশাওয়ালা জিজ্ঞাসা করলো, ‘মামা কই যাবেন?’
‘ক্ষণিকালয় আবাসিকে…
আমাকে থামিয়ে দিয়ে ইসরাত বলল, ‘না না মামা আমরা সিনেমা হলের সামনে যাবো।’
রিকশাওয়ালা আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসলো। তারপর রিকশা চালাতে শুরু করলো।
আমি ইসরাতকে বললাম, ‘সিনেমা হলের সামনে মানে?’
‘কোথায় যাচ্ছি সেটা রিকশাওয়ালাকে না বললেও চলবে। সিনেমা হল তো হোটেলের পাশেই।’
আমি চুপ করে থাকলাম। রিকশা চলছে। অন্য সময় রিকশায় বসলে ইসরাত অনেক কথা বলতো। আজ কোন কথা বলছেনা। আমি লক্ষ্য করলাম ইসরাতের হাত কাঁপছে। শুধু ইসরাতের হাত কাঁপছে তা না। আমারো হাত কাঁপছে। রিকশা থেকে নেমে প্রথমে ডান বাম দেখলাম। বাজারে মানুষের ভীড় অনেক বেশি। ইসরাতকে হাতের ইশারায় পেছন পেছন আসতে বললাম। দুজনে হোটেলের সামনে এসে দাঁড়ালাম। এর আগে আমি কখনো আবাসিক হোটেলে যাইনি। ভেতরে ঢুকতে আমার কেমন যেন ভয় ভয় করছে। ইসরাত আমার পেছন পেছন হোটেলের ভেতরে ঢুকলো। নিচতলায় দোকান। দোতলা আর তিনতলা আবাসিক হোটেল। রিসিপশনে যে ছেলেটা বসে আছে সে আড়চোখে ইসরাতের দিকে তাকাচ্ছে। ইসরাত ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছে। ছেলেটা মুচকি হেসে জিজ্ঞাসা করলো, ‘আপনারা স্বামী স্ত্রী?’
‘জ্বি…’
‘বিয়ের কাবিন নামার কপি বা কোন প্রমাণ আছে?’
ছেলেটার এ ধরনের প্রশ্নে আমি ঘাবড়ে গেলাম। আসলে এখানে আসার কোন প্রস্তুতিই আমার ছিলোনা। কি জিজ্ঞাসা করতে পারে বা কি হতে পারে এমন কিছু ভেবে রাখিনি। আমাকে চুপ থাকতে দেখে ছেলেটা হেসে বলল, ‘বুঝতে পেরেছি। দু’হাজার টাকা দিন। কোন কাগজ লাগবেনা।’
দু’হাজার টাকার কথা শুনে অবাক হলাম। খুবই নিম্নমানের হোটেল। দু’হাজার টাকা কিভাবে চায়? ছেলেটাকে বললাম, ‘এক রাতের জন্য দু’হাজার?’
ছেলেটার মুখের হাসিটা লেগেই আছে। বাজে রকমের হাসি। ছেলেটা বলল, ‘ভাই বিয়ের কাগজ দেখালে সাতশো টাকায় হবে।’
আমি মানিব্যাগ থেকে হাজার টাকার একটা নোট বের করে দিয়ে বললাম, ‘এটা রাখুন।’
ছেলেটা বলল, ‘হবেনা ভাই। আরো দিতে হবে। আরেকটা পাঁচশ টাকার নোট দিন।’
আর পাঁচশত টাকা দেয়ার পরে ছেলেটা আমাদের দোতলার কর্ণারের একটা রুমে দিয়ে গেলো।
.
জীবনে এই প্রথম কোন মেয়ের সাথে আমি এক ঘরে। নার্ভাস ফিল হচ্ছে। হাত কাঁপছে, গলা শুকিয়ে আসছে। ইসরাত বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। ইসরাতের দিকে তাকিয়ে বললাম, ‘দাঁড়িয়ে আছো কেন? বসো।’
ইসরাত আমার থেকে অনেকটা দূরে বসলো। ইসরাতকে বললাম, ‘তুমি একটু বসো। নিচ থেকে পানির একটা বোতল নিয়ে আসি। তোমার জন্য কিছু আনতে হবে?’
ইসরাত ভীত কণ্ঠে বলল, ‘আমিও যাবো তোমার সাথে।’
আমি একটু রেগে বললাম, ‘তুমি সাথে যাবে মানে? এখানে চুপচাপ বসে থাকো। আমি নিচে যাবো আর আসবো। পাঁচ মিনিটের ব্যাপার।’
ইসরাত সাথে আসতে চাচ্ছিলো। আমি ধমক দিয়ে ইসরাতকে রেখে দরজা বাইরে থেকে লক করে নিচে নামলাম।
.
এক চুমকে অর্ধেক পানির বোতল শেষ করে সিগারেট ধরালাম। এদিকে ইসরাত বারবার আমার ফোনে কল দিচ্ছে। ফোন রিসিভ করে বললাম, ‘সিগারেটটা শেষ করে আসছি।’
‘জলদি আসো প্লিজ।’ ইসরাতের কণ্ঠে ভয় স্পষ্ট।
.
আমি কি করবো সিদ্ধান্ত নিতে পারছিনা। চাইলেই আজ ইসরাতের সাথে শারিরীক সম্পর্ক করতে পারি। জীবনে প্রথম বারের জন্য নারীর স্পর্শ। ইসরাত আহামরি রূপবতী না হলেও দেখতে খারাপ না। গায়ের রঙ শ্যামলা হলেও আকর্ষণীয়। একজন পু্ুরুষের জন্য বিষয়টা লোভনীয় হলেও আমি বিষয়টা এড়াতে চাচ্ছি। রিকশায় করে আসার সময়েও আমার মনে হচ্ছিলো ইসরাত রিকশা থামিয়ে নেমে যাবে। রাজি হবেনা। আমি বিষয়টা এড়াতে চাচ্ছি কারন আমি ইসরাতকে ভালাবাসিনা। আমাদের দুজনের পরিচয় অফিসে। ইসরাতকে দেখার পর থেকে তার প্রতি এক ধরণের আকর্ষণ বোধ করতে থাকি। এভাবে মাস খানেক পার হবার পরে মনে হলো আমি হয়তো ইসরাতকে ভালোবেসে ফেলেছি। ইসরাতকে প্রপোজ করার পর সে প্রথমে রাজি হয়নি। যেহেতু আমরা কলিগ তাই সারাদিন একসাথে ওঠা-বসা কথা-বার্তা হতো। আমি ইসরাতের প্রশংসা করার কোন সুযোগ হাতছাড়া করতাম না। ইসরাতের কাজে সাহায্য করতাম। অফিস শেষে রিকশা ডেকে ইসরাতকে রিকশায় তুলে দিতাম। ধীরে ধীরে হয়তো ইসরাত আমার প্রতি দুর্বল হতে থাকে। এটা বুঝতে পেরে আমি আবার ইসরাতকে প্রপোজ করি। এবার ইসরাত প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়। প্রথম দু তিনমাস ভালোই কাটছিলো। সারাক্ষন ফোনে কথা হতো। এক সময় দুজন দুজনকে অনেকখানি জানতে শুরু করলাম। দুজন দুজনের থেকে কতোখানি ভিন্ন সেটা উপলব্ধি করতে শুরু করলাম। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের মতের অমিল হতো আর ছোট খাটো ঝগড়া হতে শুরু করলো। সম্পর্কের পাঁচ মাস পার হবার পর থেকে কেন যেন ইসরাতের প্রতি আর আবেগ কাজ করছিলোনা। আমি বুঝতে পারছিলাম জীবন সঙ্গী হিসেবে যেমন মানুষ আমার পছন্দ তার সাথে ইসরাতের বড্ড অমিল। আমাদের ফোনে কথা বলা কমে গেলো। এর মধ্যে ইসরাতের অনেক খুত-দোষ আমার চোখে ধরা পরেছে। এতে করে যেন সেই আকর্ষণটা কমে গেছে। ইসরাতের সাথে কথা বলাটা বিরক্তির পর্যায়ে চলে গিয়েছিলো। ভালোবাসা আর আকর্ষণের পার্থক্যটা হয়তো বুঝা যায় প্রেম হবার পরে। শুধু চোখ আর মনের ভালো লাগা দিয়ে কোন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যায়না। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে মনের মিল হওয়া প্রয়োজন। আমার ক্ষেত্রে মনের মিল হয়নি। প্রেম করার পরে বুঝতে পেরেছি আমার শুধুই আকর্ষণ ছিলো।
.
দু’সপ্তাহ আগে আমি ইসরাতকে রুম ডেটের কথা বলেছিলাম এটা ভেবে যে ইসরাত আমার প্রস্তাবে রাজে হবেনা। আর সেই অযুহাতে সম্পর্কটা ভেঙ্গে যাবে। যেহেতু আমিই আগ বাড়িয়ে সম্পর্কে জড়িয়েছি সেহেতু ইসরাতকে সরাসরি বলতে পারছিলাম না যে আমি তাকে ভালোবাসিনা। এখন মনে হচ্ছে আমি আরো বড় সমস্যায় জড়িয়ে পরেছি। ইসরাত আমার প্রস্তাবে রাজি হয়েছে। সত্যি বলতে ইসরাতের জন্য খারাপ লাগছে। মেয়েটা হয়তো আমাকে সত্যি ভালাবেসে ফেলেছে। নাহলে আমার এমন অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি হতোনা।
.
এখন যদি ইসরাতের সাথে শারিরীক সম্পর্কে যাই তাহলে আরো বাজে ভাবে সম্পর্কে জড়িয়ে পরবো। তাহলে কি ইসরাতকে সত্যিটা বলে দিবো? হয়তো সে অবাক হবে। কষ্ট পাবে। কান্না করবে। কিন্তু আমি এই সম্পর্ক থেকে মুক্তি পাবো। নিজে যদি সম্পর্কে সুখী না হই তাহলে ইসরাতকেও কখনো সুখে রাখতে পারবোনা।
.
সিগারেটে শেষ টান দিয়ে সিগারেটটা ফেলে পা দিয়ে মাড়িয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলাম ঠিক সেই মুহূর্তে পুলিশের একটা গাড়ি এসে আবাসিক হোটেলের সামনে থামলো। কয়েকজন পুলিশ দোতলার সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলো। ভয়ে আমার বুক ধ্বক করে উঠলো। ইসরাত তো হোটেলের রুমে। রাস্তার এপাশে দাঁড়িয়ে দেখতে পাচ্ছি পুলিশ প্রতিটা রুমে গিয়ে লোকজন বের করে নিয়ে আসছে। মুহূর্তের মধ্যে মানুষের একটা ভীড় জড়ো হয়ে গেলো। আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটা লোক বলল, ‘চোরের দশ দিন গৃহস্তের একদিন। লটর-পটর করতে আইসা খাইছে ধরা।’
কথাটা বলে লোকটা রাস্তা পার হয়ে ভীড়ের সাথে যোগ দিলো।
এদিকে ভয়ে আমার পুরো শরীর কাঁপতে শুরু করেছে। এখন কি হবে? পুলিশ কি ইসরাতকে নিয়ে যাবে? ইসরাতের কার সাথে এসেছে সেটা জানতে চেয়ে কি আমাকেও ধরে নিয়ে যাবে?
লোকজন জানলে মান সম্মান কিচ্ছু থাকবেনা। অফিস বাসা কোথাও মুখ দেখাতে পারবোনা।
পকেটে ফোনটা বাজছে। ইসরাতের নাম্বার দেখে ফোনটা কেটে বন্ধ করে দিলাম। দূরে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে দেখছি। পুলিশ এক এক করে লোকজন নামিয়ে আনছে। ভুড়িওয়ালা একটা লোককে গাড়িতে তুললো। লোকটাকে শার্ট পরার সময়টাও দেয়নি হয়তো।
দু’জন পুলিশ লোকদের ভীড় করতে বারন করছে। তাতে কোন লাভ হচ্ছেনা। লোকজনের ভীড় যেন ক্রমেই বাড়ছে। সবাই মোবাইল ফোন বের করে পুরো ঘটনা ভিডিও করছে। কেউ কেউ ছবি তুলছে।
ভীড় থেকে একজন চেঁচিয়ে বলল, ‘স্যার পাছায় একটা করে লাথি দেন আর গাড়িতে তুলেন।’
লোকটার কথা শুনে সবাই একসাথে চেঁচিয়ে উঠলো। ভীড়ের মধ্য থেকে একেক জন একেক কথা বলছে। কেউ বলছে, মুখে চুনকালি মাখিয়ে দাও। আবার কেউ বলছে, সবার মাথা ন্যাড়া করে দাও।
.
যতো সময় যাচ্ছে ভয় যেন আমাকে কাবু করে ফেলছে। আমি অপেক্ষা করছি কখন ইসরাতকে দেখতে পাবো। ইসরাতকে নামিয়ে আনা হলো সবার পরে। ইসরাত ওড়না দিয়ে মুখ পেঁচিয়ে রেখেছে। শুধু চোখ দুটো দেখা যাচ্ছে। চোখের পানিতে কাজল চোখের আশপাশে ছড়িয়ে পরেছে। সবাইকে গাড়িতে তোলার পর গাড়ি স্টার্ট দিয়ে তাদের নিয়ে গেলো। ইসরাত গাড়িতে বসে বারবার এদিক ওদিক তাকাচ্ছিলো। হয়তো আমাকে খুঁজছিলো। আমি মূর্তির মতো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকলাম।
.
ঘন্টাখানিকের মধ্যে আমি থানায় উপস্থিত হলাম। এর আগে কখনো থানায় আসিনি। কোথায় কি বললে কাজ হবে, আদৌ কোন কাজ হবে কি না জানিনা। ভুলে সোজা ওসি স্যারের রুমে ঢুকে পরেছি। তিনি ফোনে একজনকে ধমকাচ্ছিলেন। আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘সমস্যা কি?’
‘জ্বি স্যার কিছুক্ষন আগে আবাসিক থেকে…’
তিনি আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই বললেন, ‘থানা থেকে ফোন করেছিলো তাইতো?’ একজনকে ডেকে বললেন, ‘যান উনার সাথে যান।’
ইসরাতকে কয়েকটা মেয়ের সাথে একটা বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছে। ইসরাত নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। ইসরাতের চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পরছে। ইসরাতকে দেখার পরে ভেতরে ঢুকার সাহস পেলাম না। একজন কনস্টবলকে ডেকে সাইডে নিয়ে গেলাম। তাকে বললাম ইসরাতকে ছাড়ানো সম্ভব কি না। তিনি প্রথমে সম্ভব না বললেও এক হাজার টাকার নোট হাতে পেয়ে বললেন, ‘দেখছি ব্যাপারটা।’
.
আরো কিছু টাকা খসিয়ে অনুরোধ করে ইসরাতকে নিয়ে থানা থেকে বের হলাম। ইসরাত আমার দিকে তাকাচ্ছেনা। দু’হাতে মুখ চেপে কাঁদছে। ইসরাতের হাত ধরতেই এক ঝাটকায় সে হাত ছাড়িয়ে নিলো। ইসরাত রিকশা থামিয়ে উঠে বসলো। আমি রিকশায় উঠতে যাচ্ছিলাম কিন্তু ইসরাত বাঁধা দিলো। ইসরাত চলে যাওয়ার পরে যখন মেসে ফিরলাম তখন রাত এগারোটা। হাত মুখ ধুয়ে মেস থেকে বের হয়ে চায়ের দোকানে বসে সিগারেট ধরালাম। বারবার ইসরাতের সেই ভীত করুন মুখটা চোখের সামনে ভাসছে। অনেকক্ষণ ধরে ইসরাতের ফোনে ট্রাই করছি। ইসরাত ফোন ধরছেনা। ইসরাত একটা মেসেজ দিয়ে ফোন বন্ধ করে রাখলো। সে চায় আমি যেন কখনো তার সাথে যোগাযোগ না করি। এটা তো আমারো চাওয়া ছিলো। আমার খুশি হওয়ার কথা কিন্তু কেন যেন খুশি হতে পারছিনা। অপরাধ বোধ আর অস্থিরতা কাজ করছে। ইসরাতের প্রতি বিরক্তিটা হারিয়ে মায়া কাজ করছে। মনে হচ্ছে সম্পর্কটা আরো ভালোভাবে শেষ হতে পারতো। যদি ইসরাতকে আগেই সব খুলে বলতাম তাহলে ইসরাত হয়তো আমাকে দোষারোপ করতো কিন্তু একসময় ক্ষমা করে দিতো। হয়তো হঠাৎ মনে পড়লে ‘কেমন আছো?’ জিজ্ঞাসা করার পথ খোলা থাকতো। আমরা কেন যেন সম্পর্কগুলো শেষ হবার পরে কোন পিছুটান রাখতে চাইনা। সবটুকু একেবারেই শেষ করে দেই।।
.
Written by:- MD Noor Islam (Ni Alif)

Facebook Comments

About Priyo Golpo

Check Also

Bangladeshi Sweet Chakma Girl

আসেন আসেন আপু, অনেকদিন পর আসলেন। অনেক ইয়ং আর ফ্রেশ লাগছে। 

পার্লার – আসেন আসেন আপু, অনেকদিন পর আসলেন। অনেক ইয়ং আর ফ্রেশ লাগছে। ☺ সেলুন – …

error: Content is protected !!