Home / গল্প / ‘জিরো’ – ছবিটির একটি রিভিউ
Zero Is Hero Indian most popular Movie Shahrukh Khan Salman Khan

‘জিরো’ – ছবিটির একটি রিভিউ

আমি যখন হিন্দু হস্টেলে থাকতাম , আমার এক রুমমেটের অদ্ভুত ক্ষমতা ছিল । ওঁকে বললেই পাদতে পারতো । ওঁকে বলতাম – ‘ভাই , একটা পাদ হোক’ । ও এক দুই তিন বলে পোঁদটা একদিকে হেলিয়ে পাদ দিতো । রিভিউ লেখার শুরুতেই এই স্মৃতিতে আঙুল বুলিয়ে নেবার কারণ একটু পরেই জানা যাবে । আমরা সকলেই জানি ভারতের রাজনীতিতে এখন গরু বিশেষ ইম্পরট্যান্ট । তবে গরু আসলে যুগ যুগান্তর ধরে সিনেমাতে সবচেয়ে বেশী ইম্পরট্যান্ট । কারণ , গরু একমাত্র সিনেমাতেই গাছে ওঠে । এবার রিভিউতে আসা যাক । মানে কতটা জঘন্য গল্প হতে পারে শোনা যাক ।

নায়ক কিং খান এখানে বামন বাউআ সিং । বাপের পয়সা আছে । বাউআর বয়স ৩৮ । লেখাপড়া অল্প , ববিতা কুমারী নামে এক সিনেমার নায়িকার অন্ধ ভক্ত সে । বাউআর বন্ধুরা ববিতাকে বৌদি বলে । অন্যান্য চুতিয়া বন্ধুদের মতো এরাও বাউআকে গ্যাস খাইয়ে , ওঁর প্যাঙ্গা মেরে খায় । বাউআ যখন তখন বাপের পয়সা উড়িয়ে দেয় , অথচ গরীব রিক্সাওয়ালাকে পয়সা দিতে তার ফেটে যায় । বাউআর এক প্রাণের বন্ধু আছে , যে সবকাজে বাউআর পাশে আছে । তার এক চোখ কানা । তাই সে সারাক্ষণ টর্চ নিয়ে ঘোরে । কারণ , বেঁটে বাউআকে সে খুঁজে পায়না । টুকটাক খাজা ঠাট্টা ইয়ার্কি নিয়ে সিনেমা চলছে । বাউআর শখ বিয়ে করবে । বিয়ে না করলে তো আর সেক্স হবে না । এদিকে শাদিডট কমে শুধু রিজেকশন খেয়ে যাচ্ছে সে । হঠাৎ একটি মেয়ের ছবি দেখে তার ভালো লাগে । এদিকে সেই মেয়েটি সেরিব্রাল পলসিতে আক্রান্ত । সে বিখ্যাত বিজ্ঞানী , নাম আফিয়া ( অনুস্কা শর্মা ) । বাউআ পটাবার চেষ্টা করে তাঁকে । প্রথমে পাত্তা পায়না । এদিকে আফিয়াকেও সবাই করুণার চোখে দেখেছে চিরকাল । বাউআই প্রথম যে দেখেনি । দুজনে মাল খায় । তারপর বাউআ ৬ লাখ টাকা খরচ করে আফিয়াকে পটাবে বলে । এতো পয়সা আম্বানির ছেলেও খরচ করেনি মেয়ে পটাবে বলে । হোটেলের ভেতরে বৃষ্টি , দোলের রং , ব্যান্ড পার্টি , কচি ড্যান্সার সবাই হাজির হয় । আফিয়া পুরোটা পটে না তাও । এইবার শুরুতেই যে গল্পটা বলেছিলাম । আমার বন্ধু , বললেই পেদে দিতো । বাউআ আকাশে আঙুল চালালেই তারা খসতে দেখা যায় । আমার বন্ধু পোঁদ তুললেই পাদ আসতো , আর বাউআ সাত আট নয় দশ বলে আকাশের দিকে আঙুল চালালেই তারা খসে । বিজ্ঞানী আফিয়ার এইটা মনে ধরে । এবার আফিয়া আর বাউআর মধ্যে সেক্স হয়ে যায় । গরু এখনো গাছের নীচেই দাঁড়িয়ে আছে । গাছে উঠবো উঠবো করছে । বেচারি জাবর কাটছে , কাটা শেষ হলেই গাছে উঠবে ।

একটি ডান্স কম্পিটিশনের আয়োজন করা হয়েছে , যে জিতবে সে পাবে ববিতা কুমারীর ( ক্যাটরিনা ) সঙ্গে দেখা করার সুযোগ । ববিতার বয়ফ্রেনড তাঁকে ল্যাং মেরেছে বলে তিনি ক্ষেপে উঠেছেন । তার গাড়ি ফলো করে বাউআ । নেশার ঘোরে ববিতা নেমে তাঁকে ঠোঁটে চুমু খান । ভাই , কি হচ্ছে ! আচ্ছা , সিনেমা । হতে পারে । এদিকে আফিয়া হাজির হয় বাউআর বাড়িতে । সেই দেখে বাউআর বিচি শট হয়ে যায় । বাউআর বাপ জোর করে আফিয়া আর বাউআর বিয়ে দিয়ে দেয় । এদিকে বিয়ের দিন সেই ডান্স কম্পিটিশন থেকে চিঠি আসে । বাউআ বিয়ে ছেড়ে পালায় ।

বাউআ ডান্স কম্পিটিশন জিতে যায় । সে সুযোগ পায় ববিতার সঙ্গে দেখা করার । ববিতা সেই চুমুর কথা ভুলে গেছে । ববিতার সঙ্গে বাউআ থাকতে শুরু করে । এদিকে গরু জাবর কাটা শেষ করে শুরু করে দিয়েছে গাছে ওঠা । বাউআর ভাঁট শুনে ববিতা কেন নিজের বাড়িতে ওঁকে রেখে দিলেন কেউ জানে না । ববিতা পুরনো বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে হেদিয়ে মরছে । তাই , সে চোখে ধেবড়ে যাওয়া কাজল , হাতে মালের বোতল , আর কোমরে বামন বাউআ গুঁজে সিনেমার পিণ্ডি চটকাচ্ছেন । এদিকে ববিতা বুঝতে পারে বাউআর আসল প্রেম আফিয়া । বাউআ কখন আফিয়ার প্রেমে পড়লো সেটা সিনেমা দেখে বোঝা যায়নি । যেহেতু তাঁকে কেউ দেয় না , তাই সে পাতি সেক্স করার জন্য আফিয়াকে ছকে ছিল । কিন্তু, বাউআর মনে হয় যেন প্রেম প্রেম পাচ্ছে । দেখবেন সন্ধের দিকে চা খেলে অনেক সময় হাগা হাগা পায় । গেলেই যে হাগা হবে , তার গ্যারান্টি নাই । এদিকে বাউআ হেবি টেটিয়া মাল । যতক্ষণ না পর্যন্ত ববিতা তাঁকে পুরো লাথ মেরে , অপমান করছে ততক্ষণ পর্যন্ত তার মন আফিয়ার কাছে ফিরে যেতে চাইছে না । এটা ববিতাও বুঝে যায় । এই দেড় ব্যাটারিকে লাথ না মারলে আফিয়ার কাছে ফিরে যাবে না । মানে কিছু লোকের এমনিই হাগা পায় , কিছু লোক ইসবগুল খায় , বিড়ি খায় যাতে হাগা পায় । যাইহোক , ববিতার লাথ খেয়ে বাউআ তার হাফ কানা বন্ধুকে নিয়ে আমেরিকার পাড়ি দেয় । বাউআ আমেরিকার রাস্তাতেও নোট উড়িয়ে দিতে থাকে । শুরু থেকে একটা জিনিস বুঝলাম না । বাউআর কাছে এতো পয়সা আসছে কিকরে ! বাপের কত পয়সা আছে !

গরু গাছের অনেকটাই উপরে উঠে গেছে । কিন্তু, দিল্লি এখনো দূর । আফিয়ার ওখানে এক বিজ্ঞানীর সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছে । নাসা থেকে একটি মহাকাশযান মঙ্গলে না কোথায় একটা যাবে । আফিয়া একটি শিম্পাঞ্জিকে ট্রেনিং দিয়েছে , সে নাকি মহাকাশে যাবে । এদিকে শিম্পাঞ্জি সব ট্রেনিং নিয়ে নেবার পর দাঁত খিঁচিয়ে বলে – ‘আমি বাল যাবো’ । শিম্পাঞ্জি কাঠের মহাকাশযানে বউ বাচ্চা ছেড়ে অনসাইট যেতে রাজী নয় । এদিকে আফিয়া কিছুতেই বাউআর সঙ্গে দেখা করবে না । বাউআ জানতে পারে আফিয়ার সঙ্গে সেই যে একবার সেক্স করেছিল , তাতে একটা বাচ্চা হয়েছে । ব্যাস , বাউআ কেঁদে কেটে একসা করে । আমি কিছুতেই বুঝতে পারলাম না , কখন বাউআর প্রেম হল ! আফিয়া বাউআর সঙ্গে নাসার একটা রুমে দেখা করে । বাউআকে দেখে আফিয়ার ঝাঁট জলে । সে বলে – ‘বাবা বাউআ তুমি আবার এয়েচো ?” সেই রুমে একটা সুইচ টিপলেই গ্র্যাভিটি জিরো হয়ে যায় । আফিয়া হুইল চেয়ার ছেড়ে ভাসতে থাকে । বাউয়াও ভাসছে। আফিয়া বাউআকে ঘেন্না করে এখন । আফিয়ার তো সেরিব্রাল পলসি ছিল ! যাইহোক , সে ভাসতে ভাসতে হুইল চেয়ারে ফিরে আসে । আবার সুইচ টিপে রুমের গ্র্যাভিটি স্বাভাবিক করে । এদিকে বাউআর মনে হয় নিজের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করা উচিত । তখন মহাকাশ যানের যাত্রী পোস্টে নাসাতে লোক নিচ্ছিল । কারণ , ওদিকে শিম্পাঞ্জি যেতে রাজী হয়নি । বাউআ আর ওঁর হাফ কানা বন্ধু ফর্ম ফিলআপ করে মহাকাশযাত্রী পোস্টে । বাউআ প্রতিবন্ধী কোটায় চান্স পেয়ে যায় । নাসার কি অবস্থা ! মাধ্যমিক পাশ বাউআ মহাকাশচারী ! শালা এই ডিগ্রিতে আমাগো পশ্চিমবঙ্গে চপ ভাজার চাকরী পাবে না , সে নাকি মহাকাশচারী ! বাউআ এইসব বাজারি করছে , আফিয়াকে বোঝাতে যে , বাউআ তাঁকে ভালবাসে । এদিকে যেদিন বাউআ মহাকশে পাড়ি দেবে ওইদিনই আফিয়ার বিয়ে । মদন গুপ্তের ফুল পঞ্জিকাতে আর ডেট ছিল না হয়তো । যদিও আফিয়া বিয়ে ছেড়ে নাসার অফিসে আসে , বাউআকে শেষ বিদায় জানাতে । আফিয়া বিয়েবাড়ি থেকে অফিস আসে হুইল চেয়ারে । কেউ গাড়ি দেয়নি ওঁকে ! বাউআ আকাশে উড়ে যায় । কিন্তু, পনেরো বছর পর মঙ্গল গ্রহে ছুটি কাটিয়ে সে ফিরে আসে । সিনেমা শেষ হয় ।

এই সিনেমার গল্প যিনি লিখেছেন হয় তাঁকে অবিলম্বে কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো উচিত । এই সিনেমার ডিরেকশন , এডিটিং , সিনেমাটোগ্রাফি কোনো কিছু নিয়েই কথা বলা যায় না । ২০১৮ সালে দাঁড়িয়ে এমন সিনেমা কিকরে কেউ বানাতে পারে ! এঁদের কাছে পাগলুর , কি করে তোকে বলবোর মতো সিনেমাও পথের পাঁচালি মনে হতে পারে । দর্শক প্রথম হাফে সিটি মারছিল । পরের হাফে গোটা হল শ্মশান হয়ে গেছিলো । দর্শক বুঝতেই পারছে না কি বলবে । তাই ‘জয় কিং খান’ বলে মলত্যাগ থুড়ি হল ত্যাগ করেছেন । সিনেমার গান অতি জঘন্য । অসব্য ড্রেস পরা ক্যাটরিনা কাইফ সিনেমায় বাড়িতে সাজিয়ে রাখা শো পিসের মতো আছেন । সামনের দিনেও থাকবেন । অনুস্কার অভিনয় জঘন্য । সবচেয়ে জঘন্য অভিনয় শাহরুখ খানের । সেই ‘ফ্যান’ থেকে উনি এইসব শুরু করেছেন । উনি জানেন , এই বুড়ো বয়সে আর রাহুল সাজতে পারবেন না । তাই , রোগ বালাই মার্কা চরিত্র করে যদি বাজিমাত করা যায় । সত্যি কথা বলতে , সিনেমার ফার্স্ট হাফ অতোটা খারাপ নয় । সেকেন্ড হাফ থেকে গরু সাইকেল নিয়ে গাছে উঠে গেছে । শাহরুখ খান আছেন বলে লোকে দেখতে যাবে । কিছুদিন পর এই সিনেমা হাওয়া হয়ে যাবে । সিনেমার সবকিছুর জন্য লোকে কোটি কোটি টাকা ঢালে । অথচ গল্পের জন্য ! গল্পের এতো অভাব ভাই ! শাহরুখ জানেন , সিনেমা তার নামে চলে । তাহলে , একটু ভালো ছবি কি করা যায় না । এদিক থেকে সলমন খান অনেক বেটার । যেটা পারে সেটা করে । সিঙ্গল স্ক্রিন মসিহা কিন্তু সলমন খান । আসলে আজ অবধি আমরা জানতাম গল্পে গরু গাছে ওঠে । এই সিনেমা দেখালো , গরু মহাকশেও উঠতে পারে । যদি মশলা ছবি , নাচগানের ছবি করতে হয় তাহলে সেটা সৎভাবে করুন । দর্শককে চদু বানানো বন্ধ করুন । এই সিনেমায় অতিথি শিল্পী হিসেবে জামিনে মুক্ত সলমন খান , জ্যান্ত শ্রী দেবী , আইবুড়ি দীপিকা , খুকি আলিয়া এরাও আছেন । শালা নাসার মঙ্গল গ্রহ অভিযান আর পোদ্দার ট্রাভেলসের চাকলা ধাম যাত্রা এক করে ছেড়েছে মাইরি ।

–সুমন সরকার

Facebook Comments

About Priyo Golpo

Check Also

গল্প বিচিত্রা – আপনার পড়া উচিত

(১) আজকে বিচিত্রা খুলে অদ্ভুত একটি বিজ্ঞাপন দেখলো সুমি। একজন প্রবাসী লিখেছেন,” আইডিয়াল স্কুল এবং …

error: Content is protected !!