Home / অনুপ্রেরণা / আমরা বাঙালী ,আমাদের রক্তের রং লাল কিন্তু হৃদয়ের রং লাল সবুজ।

আমরা বাঙালী ,আমাদের রক্তের রং লাল কিন্তু হৃদয়ের রং লাল সবুজ।

প্রতিটা দিবস আসলেই কিছু লাইফলেস ,জেলাস পোলাপাইন দেখা যাবে, যারা

সেঁজেগুজে বাইরে ঘুর‍তে বেড়োন কাপলদের নিয়ে কটাক্ষ করবে।

” প্রতিটা ডে কেই ভ্যালেন্টাইন্স ডে বানিয়ে দেয় ,বিজয় দিবসে লিটনের ফ্ল্যাটে কি! ”

ইত্যাদি আজাইরা কথা বলবে। এদের কাম হইল ফেসবুকে পুলিশিং করা। যে বিজয় দিবস আমরা এইভাবে বলব এইভাবে পালন করতে হবে।

একুশে ফেব্রুয়ারীতে ফুল না দিয়ে নফল নামাজ পড়তে হবে। পহেলা বৈশাখে এত আটা ময়দা মাখার কি আছে? সিম্পল থাকা যায়না।

আজ্ঞে ভাইসাহেবরা কেউ আপনাদের খায় না। বিজয় দিবস হোক কিংবা ২৬ শে মার্চ ,মানুষ প্রেম করতে বের হবে ,সেটা মানুষের ইচ্ছা।

তাতে কি তোমাদের গাবায়?

এই লাইফলেস জেলাস পোলাপাইন আসলে একিউট আজাইরা ডিপ্রেশন সিনড্রোম সংক্ষেপে AADS এডস এ ভুগতেছে। এদের কথা হইল এদের কোন লাইফ নাই তাই দুনিয়ার কারো লাইফ থাকতে পারবে না।

তারা ডিইইইইইফরেন্ট ইয়ো। সো ইউ গাইজ ,ঠোমাডেরো ঠাডের মত ডিফারেন্ট হইত হইব।
এঞ্জয়িং দিবস ইজ ঠু মেইনস্ট্রিম।

বিজয় দিবস আমাদের জন্য আনন্দের দিন। এদিন প্রেমিক প্রেমিকা শাড়ি পাঞ্জাবি পড়ে বের হবে নাত কোনদিন হবে?

এমন কি শোক দিবসেও যদি কাপল সাদা কালো জামায় বের হয় ,দুই চার লাইন বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে কথা বলে আমিত কোন সমস্যা দেখিনা।

আর ইদানিং ফেসবুকের মাধ্যমে আমরা নিজেরাই কথায় কথায় আমাদের পপ কালচারে লিটনের ফ্ল্যাটের মত নোংরা শব্দ ঢুকিয়ে ফেলেছি যে

আমরা মনে করি সব প্রেমিক প্রেমিকাই এমন করে।

আজ্ঞে সব প্রেমিক প্রেমিকা বিভিন্ন দিবসে ফ্ল্যাটে যায়না। কেউ কেউ টিউশনি করে অনেক কস্টার্জিত টাকা জমিয়ে সেই টাকা দিয়ে জামা কিনে এই দিনে সেঁজেগুজে বের হয়।

তার একটা লাইফ আছে। তোমার কি আছে?

ভাইয়া আমার ডিপ্রেশন আছে। balobasa kana balana    

মানুষের আনন্দের মাঝে আনন্দ খুঁজে নিতে শিখ।

এ দেশের মানুষগুলা অনেক দুঃখী মানুষ। আমাদের জন্মটাই হইছে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে ধুয়ে ,দুই লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রম হারানোর বেদনায়। জন্মের ৫ বছর পর পিতাকে হারিয়ে আমরা সামরিক শাসনের যাতাকলে ঢুকেছিলাম।

আমরা রমনা বটমূলে বৈশাখ পালন করতে গিয়েও জংগীদের হাতে প্রাণ দিয়েছি। কিন্তু আমরা ফাইটার জাতি। আমাদের দেশের জাতশত্রু রাজাকারদের ফাসিতে ঝুলিয়ে ,পিতা হত্যার বিচার করে ,জন্মের ঋণ শোধ করে ,জঙ্গীবাদ কে আস্তে আস্তে দমন করে ,কঠোর পরিশ্রমে দেশ হিসেবে অর্থনৈতিক ভাবে ,প্রযুক্তিগত ভাবে বিশ্বের দরবারে ফাইনালি মাথা উঁচু করে দাড়াচ্ছি

তখন ,এই কঠোর পরিশ্রমী দুঃখী জাতির একচ্ছত্র অধিকার আছে,বিজয় দিবস ,স্বাধীনতা দিবস,মহান একুশে তুমুল আনন্দে ,শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করে উদযাপন করার।

কারণ আমরা যতবার বিজয় দিবসে লাল সবুজ জামায় বিজয় উৎযাপনে বের হবে ততবারই ,এ দেশে থাকা পাকিস্তানের দালালদের গা জ্বলে উঠবে। ওরাত চায় আমাদের বোমাবাজির দেশ পাকিস্তান বানাতে।

একজন ভ্যাম্পায়ারের কাছে দিনের আলো যেমন আতংকের অপর নাম ,একজন পাকি দালালের কাছে লাল সবুজ তেমনি আতংকের প্রতিশব্দ। লাল সবুজ দেখলেই ওদের ৭১ এ বাঙ্গালী বিচ্ছুদের হাতে খাওয়া কাঁচকি মাইরের কথা মনে পড়ে যায়।

এখনো সময় আছে লাইফলেস পোলাপাইন মানুষ হইয়া যা। তোদের আসল সমস্যা লাল সবুজে। বাঙালীর আনন্দে এটা আমরা ঠিকি বুঝি।

বাংলাদেশ নামক দেশটা যতদিন থাকবে ততদিন বিজয় দিবসে সন্তান পিতার হাত ধরে ,প্রেমিকা প্রেমিকের হাত ধরে বিজয় উৎযাপনে বের হবেই। নিজের বাঙালী আইডেন্টিটি শো অফ করবেই।

আমরা বাঙালী ,আমাদের রক্তের রং লাল কিন্তু হৃদয়ের রং লাল সবুজ।

Facebook Comments

About Priyo Golpo

Check Also

হুইসেল-whistle-abdul-zabbar-khan-jiboner-golpo

হুইসেল । Whistle

বিকেল পাঁচটার দিকে ঢাকা ইউনিভার্সিটি টিএসসি’র সামনে থেকে একটা রিকশা নিলাম। প্যাসেঞ্জার সুমি এবং আমি। …

error: Content is protected !!